প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৯:৫১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৮, ২০২৫, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতার অগ্রনায়ক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক সারাদেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারের পাঠক/শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রচনা/নিবন্ধ লিখন’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী পাঠক/শিক্ষার্থীর মধ্য হতে প্রাথমিকভাবে দু’টি বিভাগে (‘ক’ বিভাগে ১৬ জন এবং ‘খ’ বিভাগে ১৫ জন) নির্বাচিত মোট ৩১ পাঠক/শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২৮ জুলাই ২০২৫ সকাল ৯.০০টায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং দুপুর ১২.০০টায় সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক মঈদুল হাসান, তাজউদ্দীন কন্যা ও লেখক শারমিন আহমদ এবং লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফিরোজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। এছাড়া সকাল থেকে বিচারকার্য পরিচালনায় ছিলেন লেখক সুহান রিজওয়ান, লেখক ও সম্পাদক সাজ্জাদ আরেফীন এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম ফিরোজ আহমেদ বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ সর্বদা আত্মমর্যাদা নিয়ে ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি কখনো দেশকে ছোট করেননি। শেখ মুজিব তাজউদ্দীনকে ভয় করতেন কারণ তিনি ভেবেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ যেকোনো সময় দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে পারেন।

তাজউদ্দীন কন্যা শারমিন আহমদ তার বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা আমাদের থেকে দূরে থাকতেন। তিনি বলতেন, মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিবার থেকে দূরে আছে, আমি কী করে পরিবারের সাথে থাকি? এছাড়া তিনি আরও বলেন, বাবা পশু-পাখিকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। এছাড়া মানবপ্রেম ছিলো তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি কখনো কারো কাছে মাথা নত করেননি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈদুল হাসান বলেন, তাজউদ্দীন না হলে আমাদের স্বাধীনতা পেতাম না। তবে দুঃখের বিষয় তাঁকে নিয়ে সেরকম কোনো আলোচনা কখনো দেখা যায়নি। কী একটা অজানা ভয় আমাদেরকে তাড়া করতো। তবে এখন সময় এসেছে প্রকৃত ইতিহাস জানার।
সভাপতি আফসানা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, তাজউদ্দীন ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রসৈনিক। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারে তার দুরদর্শিতা এবং বলিষ্ট নেতৃত্ব অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমরা তাকে তার প্রাপ্য মর্য়াদা দিতে পারিনি। আশাকরি সকল বৈষম্যের অবশান ঘটিয়ে জাতি তার যোগ্য সন্তানকে যথার্থ মর্যাদা দেবেন।
উল্লেখ্য, ‘রচনা/নিবন্ধ লিখন’ কর্মসূচির চূড়ান্ত মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তির ভিত্তিতে দুই বিভাগে নির্বাচিত প্রথম ৫ জন করে মোট ১০ জন সেরা পাঠক/শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ২,০০০/- টাকা মূল্যমানের বই, ১,০০০/- টাকার প্রাইজ বন্ড এবং একটি করে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য পাঠক/শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে ১,০০০/- টাকা মূল্যমানের বই, ৫০০/- টাকার প্রাইজ বন্ড এবং একটি করে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থীরা হলো-
বিভাগ- ক
১. কামাল স্মৃতি পাঠাগার, গেন্ডারিয়া, ঢাকা চৈতি ঋতি মজুমদার
২. শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, মহিলা কলেজ সড়ক, পটুয়াখালী তাফসিন তৌফিক কসমিক
৩. মোখলেসুর রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগার পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও ইসরাত জাহান অথৈই
৪. প্রয়াস পাঠাগার, কাশিনাথপুর, পাবনা তাইবা হক রিওনা
৫. সুফিয়া মান্নান গণগ্রন্থাগার, বিন্নাটি, কিশোরগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ ফারিয়া ইসলাম শিফা
বিভাগ- খ
১. শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, মহিলা কলেজ সড়ক, পটুয়াখালী ঈশিতা
২. চিরি নদীর বাতিঘর , চিরিবন্দর, দিনাজপুর রাফি ইসলাম রিশাদ
৩. বেরাইদ গণপাঠাগার , বেরাইদ, বাড্ডা, ঢাকা কারিমা ফেরদৌসী কেকা
৪. কামাল স্মৃতি পাঠাগার, গেন্ডারিয়া, ঢাকা আসমা জাহান আভা
৫. বীরমুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মাহবুবুল হক পাঠাগার, সিরাজগঞ্জ জান্নাতুল নাজমী