
কবি জীবনানন্দ দাশের ৬৮তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর কলকাতার শম্ভুনাথ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আধুনিক বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। মা কুসুম কুমারী দাশও ছিলেন কবি। যার রচিত ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’- পঙক্তি দুটি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সাংসারিক কাজের ফাঁকে তিনি কবিতা লিখতেন। জীবনানন্দ দাশ সাহিত্যচর্চা ও কবিতা রচনার প্রেরণা পান মায়ের কাছ থেকেই।
১৯২৫ সালের জুনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে জীবনানন্দ দাশ রচনা করেন ‘দেশবন্ধুর প্রয়াণে’, যা প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গবাসী’ পত্রিকায়। তবে ১৯৫২ সাল থেকে তার কবিতা নিয়মিত ‘প্রবাসী’, ‘বঙ্গবাসী’, ‘কল্লোল’, ‘কালি-কলম’, ‘বিজলী’, ‘ধূপছায়া’, ‘প্রগতি’ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। কবির কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘রূপসী বাংলা’ এবং ‘বেলা অবেলা কালবেলা’। এ ছাড়া তিনি ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে একটি গদ্যগ্রন্থও লিখেছেন। জীবনানন্দের মৃত্যুর পর ছাপা হয় তার উপন্যাস ‘মাল্যবান’ ও ‘সতীর্থ’। এ ছাড়াও তার অপ্রকাশিত অনেক রচনা পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।
Leave a Reply