গ্রন্থের প্রথমে দেওয়া হয়েছে Form of Sanad শিরোনামে ১৮৭০ সালের বঙ্গীয় ৬ আইনের ৩ ধরা মতে সনদের পাঠ শিরোনামে ঐতিহাসিক একটি প্রামাণ্য নিয়োগ পত্রের কপি তুলে ধরা হয়েছে। সূচীপত্রের পরে আছে ভূমিকা। আর ভূমিকা লিখেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় ভূমিকা উপস্থাপন করেছেন যা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। ইহাতে বইটির মান সমৃদ্ধ হয়েছে। এরপর আছে সম্পাদকীয় কলাম। এটি লিখেছেন বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিক, আমাদের সিলেটের গর্ব, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মতিয়ার চৌধুরী ভাই। তিনি সম্পাদকীয়তে তুলে ধরেছেন তাঁর দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নের কথা। ইতিহাসের গভীর হারিয়ে যাওয়া টুকরো টুকরো মানিক কষ্ট করে সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এক ঐতিহাসিক দলিল স্মারকগ্রন্থ ‘কালের অভিজ্ঞান’, যা সত্যি এক প্রশংসনীয় মহৎ কাজ।
তারপর দেওয়া হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ মূল্যবান পাঁচজন লেখকের পাঁচটি নিবন্ধ। প্রথম নিবন্ধ লিখেছেন সিলেটের স্বনামধন্য বহু গ্রন্থের লেখক, পাঠক ও গবেষক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শ্রীচৈতন্য গবেষণা কেন্দ্রের সম্পাদক প্রকৌশলী শ্রী মনোজ বিকাশ দেবরায় দাদা। সহজ-সরল ভাষায় বিভিন্ন ভক্তি সংমিশ্রনে জ্ঞান-গর্ব আলোচনা উপস্থাপন করেছেন, যা সত্যি ‘সনাতন দাস ও দীননাথ দাস-এঁর কর্মযোগ’ সুচারু রূপে প্রতিফলিত হয়েছে। তারপর দ্বিতীয় নিবন্ধটি লিখেছেন সিলেটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট ইজমার সাবেক সভাপতি, আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি আল-আজাদ ভাই। তিনি অতি দক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সনাতন দাস ও দীননাথ দাসের কর্মপরিধি। তাঁদের বিভিন্ন গুনাবলী সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করেছেন। আমি মনে করি এতে গ্রন্থের মান আরো বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় নিবন্ধটি বর্ণনা করেছেন শতবর্ষী শ্রী মুকন্দ চন্দ্র দাস দাদা। যিনি একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যিনি নিজ চোখে কাছ থেকে দেখেছেন সনাতন দাস ও দীননাথ দাস এর ন্যায়-নীতি পরায়ণ সাহসী কাজ গুলো। এর থেকে প্রমানিত হয় তাঁরা কত উঁচু মানের সমাজ সংস্কারক ছিলেন। যা আজ অকল্পনীয় ও বিরল। শ্রী মুকন্দ চন্দ্র দাস দাদার স্মরণ থেকে নিবন্ধ ‘সনাতন দাস ও দীননাম দাস আমার স্মরনে ও মননে’ অনুলিখন করে লেখকের দায়িত্ব পালন করেন দীননাথ দাসের গর্বিত প্রপৌত্র সম্ভাবনাময়ী লেখক ও গবেষক, কঠোর পরিশ্রমী সাহিত্য প্রেমিক শ্রীমান রত্নদীপ দাস রাজু। তিনি চমৎকারভাবে তা লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন, এর জন্য তাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস জেনে সনাতন দাস ও দীননাথ দাস এঁর আদর্শের মত গড়ে উঠবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্তি করি।
তারপর চতুর্থ নিবন্ধটি লিখেছেন ‘পূর্বজদের স্মৃতি তর্পন’ শিরোনামে সনাতন দাস ও দীননাথ দাসের সুযোগ্য উত্তরসূরী দীননাথ দাসের পৌত্র মুক্তাহার গ্রামের আরেক আলোকিত ব্যক্তিত্ব, সঙ্গীত শিল্পী, বহু গুণে গুনান্বিত স্বর্গীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস দাদা। তিনি তাঁর পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সুন্দরভাবে বংশলতিকাসহ সন্নেবেশিত করেছেন যা পরবর্তী প্রজন্মগণ জেনে সমৃদ্ধ হবেন। আমি আশা প্রকাশ করি তাঁর রেখে যাওয়া সুযোগ্য উত্তরসুরীগণ এই মর্যাদাশীল পারিবারিক ঐতিহাস যত্নসহকারে সংগ্রহ করে রাখবেন অনাদিকাল পর্যন্ত। সব শেষ নিবন্ধটি লিখেছেন- ‘ইতিহাস কথা কয়, সনাতন-দীননাথ আপন-আলোয় উদ্ভাসিত’ শিরোনামে আলোচ্য গ্রন্থের সম্পাদক মহোদয় বিশিষ্ট সাংবাদিক লেখক ও গবেষক মতিয়ার চৌধুরী ভাই। তিনি তাঁর নিবন্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছেন যা নতুন প্রজন্মের কাছে আজানা। সার্কেল ব্যবস্থাপনা ও তাদের আওতাভূক্ত এলাকা এলাকা ঘুরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এই গ্রন্থে সুন্দর ভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। এতে গ্রন্থটি বাহু জেনে সমৃদ্ধ লাভ করেছে বসে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। তারপর আছে নিবেদিত পঙক্তিমালা। শ্রীমান সনাতন দাস ও শ্রীমান দীননাথ দাস কে নিয়ে ছন্দ-তালে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন কবি, গল্পকার ও শিশু সাহিত্যিক শ্রী পৃথ্বীশ চক্রবর্তী। উনার সুন্দর তালে উপস্থাপনা সত্যি মনোমুগ্ধকর হয়েছে।
Leave a Reply