নিজস্ব প্রতিবেদক: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম ২০২৬’-এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ (সোমবার, ২২ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি পাঠকদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন- “বাংলাদেশ একসময় ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিল। আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে ইবনে বতুতা পর্যন্ত বহু পর্যটক ও ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশকে পুনরায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মকেই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন সীমান্ত গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীগণ, আবৃত্তি পরিবেশন করেন কামাল স্মৃতি পাঠাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীগণ। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক ফরিদ উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, বিচারকমণ্ডলীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন- “জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শন চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, করোনাকালীন সংকটের সময় শুরু হওয়া ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’ বর্তমানে একটি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি গ্রন্থাগারের ৬৪৭ জন পাঠক অংশগ্রহণ করেন।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘ক’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ এবং একাদশ শ্রেণি থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ‘খ’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নির্ধারণ করা হয়। বিচারকমণ্ডলীর প্রদত্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ১০ জন করে দুটি বিভাগে মোট ২০ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে সেরা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
পুরস্কারবিতরণী অনুষ্ঠানে ‘ক’ ও ‘খ’ প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট নির্বাচিত ২০ জন সেরা পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩,০০০/- টাকার সমমূল্যের বই, ৩,০০০/- টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড এবং একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে ১,০০০/- টাকা সমমূল্যের বই, ১,০০০/- টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ও একটি সনদপত্র পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী ৭২টি গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীগণ, গণগ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply