1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা ও বইপড়া আন্দোলন

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৫৫ বার পঠিত


ফাইল ফটো : বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস

একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা ও বইপড়া আন্দোলন

রত্নদীপ দাস (রাজু)

গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা :
সবুজের সমারোহ, হাওর বেষ্টিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ একটি গ্রাম মুক্তাহার। গ্রামটি হবিগঞ্জ জেলাধীন নবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ‘মুক্তাহার’ নামের আভিধানিক অর্থ মুক্তার মালা। অর্থাৎ এই গ্রামের মানুষজন চরিত্রে বৈশিষ্ট্যে গুণবান। বর্তমান সময়ে একথা শতভাগ সত্যি না হলেও গ্রামের অতীত ইতিহাস বলে, এই গ্রামের পূর্বজরা মানবিক গুণে গুণান্বিত ও সামাজিক-রাজনৈতিক জ্ঞান সমৃদ্ধ মানুষ ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাণীকান্ত দাশ অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭১ এর সুমহান মুক্তিযুদ্ধে গ্রামের রবীন্দ্র চন্দ্র দাস সহ ১১ জন বীর পুত্র মুক্তিযুদ্ধের স্বশস্ত্র পর্বে সিংহ রূপ সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করেন। সাংস্কৃতিক অঙনেও গ্রামের খুটি অনেক মজবুত। একসময় নৌকা বাইচ, যাত্রাপালা, পালাগান, কবিগান, ঘাটোগান, ফুটবল, হা ডু ডু, কাবাডি প্রভৃতি ছিল প্রধান সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। কালের বিবর্তনে এখন ফুটবল, ক্রিকেট, বেট-বিন্টন সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে- শতবর্ষেরও বেশী সময়ের পুরনো শ্রীশ্রী গোপাল জিউড় আখড়া, মুক্তাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৫৬), মুক্তাহার কমিনিউটি ক্লিনিক (২০০০) প্রভৃতি।

গ্রন্থাগার হচ্ছে সাহিত্য ও বিনোদনের একটি অংশ এবং জ্ঞানের আশ্রম। আলোকিত মানুষ তৈরিতে গ্রন্থাগারের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ইতিমধ্যে যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্রামের শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এলাকার খ্যাতিমান শিক্ষক ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস অনুধাবন করেন।,,৷৷৷ এলাকার নর-নারী নির্বিশেষে সৃজনশীল সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন, মানবিক মূল্যবোধে উদ্ভুদ্ধকরণ, শিক্ষার প্রসার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও অবক্ষয় রোধকল্পে গ্রন্থাগার একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এই ধারণার আলোকে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস মহাশয়ের পারিবারিক সংগ্রহশালা ‘সনাতন-দীননাথ পারিবারিক সংগ্রহশালা’ কে সর্ব সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় [দীননাথ দাস (১৮৬০-১৯৪৩) রবীন্দ্র চন্দ্র দাস মহাশয়ের পিতামহ এবং সনাতন দাস (১৮৫৫-১৯৩৮) দীননাথ দাসের অগ্রজ]। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত হয় অত্র ইউনিয়নের একমাত্র গ্রন্থাগার, যা বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক নিবন্ধিত নবীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র গণগ্রন্থাগার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ (২০১৫)। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যে সকল ছোট-বড়ো গ্রন্থাগার প্রান্তিক মানুষের পাঠের চাহিদা পূরণ করছে এবং আলোকিত মানুষ তৈরি করতে আলোর বাতিঘর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই সব গ্রন্থাগারের অন্যতম হল ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’।

‘রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে পড়ি বই/ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হই।’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর এক নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’। গ্রন্থাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি, কীর্তিনারায়ণ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত সমাজসেবক, রবীন্দ্র চন্দ্র দাস’র বাল্য বন্ধু মেজর (অব:) সুরঞ্জন দাস। গ্রন্থাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনের পরই পাঠক সমাবেশ বাড়তে থাকে। বছর খানেকের মধ্যেই পাঠকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় গ্রন্থাগারের পরিচালনা পর্ষদ। গ্রন্থাগারের পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি গ্রন্থাগারের পাঠক সেবা বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় ‘পাঠক ফোরাম’ এবং ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফোরাম’ নামক দুইটি সহযোগী সংগঠন গঠন করা হয়। প্রতি বছর গ্রন্থাগার পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগীতা বা ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশে কাজ করে এমন একটি কর্মসূচি পালন করা হয় এবং কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফোরামের উদ্যোগে এবং প্রতিষ্ঠাতার ও পরিচালনা পর্ষদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তাছাড়া প্রতি বছর ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করতে গ্রন্থাগারের সদস্যদের নিয়ে একটি শিক্ষা ভ্রমণেরও আয়োজন করা হয়। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা হয়। বইপাঠ, পাঠক সৃষ্টি, অর্জিত শিক্ষার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, সামাজিক চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশ, অপসংস্কৃতির বিপরীতে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বইপড়া আন্দোলনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে মাসিক একটি আলোচনা সভা এবং বই পড়া বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পাঠকদের মধ্য থেকে লেখক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ‘মুক্তাক্ষর’ নামক একটি সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে। এই বছর থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘সেরা পাঠক সম্মাননা’ দেওয়ার। তাছাড়া বই পড়ায় ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে আগ্রহী করতে নেওয়া হচ্ছে চমৎকার কিছু উদ্যোগ।

গ্রন্থাগারের সহস্রাধিক বই, মানসম্মত একটি গঠনতন্ত্র এবং ১১১ জন সদস্য রয়েছে। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ নভেম্বর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র উক্ত গ্রন্থাগারের নিবন্ধন প্রদান করে। গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠাতার পরিবার থেকে দেয়া জমি থাকলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সে উদ্যোগ আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না। গ্রন্থাগারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতার বাড়ির বাংলো ঘরে (সড়ক সংলগ্ন)। এ পর্যন্ত গ্রন্থাগার পরিদর্শনে করে আমাদেরকে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছেন- হবিগঞ্জ-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এমএ মুনীম চৌধুরী বাবু (২০১৭), সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (২০১৭), নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম (২০২১) সহ জনপ্রতিনিধি, কবি, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অনেক গুণীজন।

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ আমাদের একটি স্বপ্নের নাম। যে স্বপ্নকে রূপায়িত করতে কাজ করে যাচ্ছে এলাকার একঝাঁক গ্রন্থপ্রেমিক তরুণ যুবক। এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রন্থাগার মুখী ও বই পড়ায় অভ্যাস গড়ে তুলতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। গ্রন্থাগারের যে কোনও অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। প্রত্যেক জায়গাতেই কিছু সংখ্যক মানুষ থাকে, যারা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের অনুশীলনে অভ্যস্থ। যা আমাদের দেশে ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ বা ‘গ্রাম্য রাজনীতি’ নামে পরিচিত। এই জাতীয় লোকেরা স্বভাবতই এলাকার বিভিন্ন মহৎ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্থ করে থাকে। এখানেও এর ব্যাত্যয় ঘটেনি। যুবকদের এই মহৎ উদ্যোগ কোন কোন লোকের হৃদয়কে লোহার শলাকার মতোই বিদ্ধ করে। প্রতিনিয়তই তারা বিভিন্নভাবে গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্ট আলোর পথের অভিযাত্রী যুবকদের বিপথগামী করার চেষ্টা করে। সমাজের এই সব কলুষিত ঘৃণ্য ব্যক্তিদের দূরভীসন্ধী চালকে ব্যর্থ প্রমাণ করে আমরা সমাজের মানুষকে আলোর পথের দিশা দেখাতে দৃপ্ত পায়ে হেটে যাচ্ছি। আলোর পথের অভিযাত্রী সাহসী এক ঝাঁক যুবকদের মধ্যে অন্যতম হলো- গৌতম দাস, ঝিনুক দাস, সৈকত দাস, অপূর্ব দাস, রনি দাস, মিশু দাস, সাগর দাস জনি, দেবাশীষ দাস রতন, দ্বীপ দাস, নিউটন দাস, দীপ্ত দাস, জনি দাস, কনিক দাস শুভ, রসেন্দ্র দাস, স্বপন দাস (এসডি) প্রমুখ। আরো অনেকেই রয়েছেন, যারা সকলেই আমার একান্ত আপনজন।

জ্ঞানার্জন করতে বই পড়ার কোনও বিকল্প নেই। বই পড়ার উৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে গ্রন্থাগার। একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার একটি এলাকাকে আলোকিত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা সেই আলোকিত মানুষ তৈরির দ্বার উন্মোচিত করার চেষ্টা করেছি। আমাদের এলাকার তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত জ্ঞানান্বেষনের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের গ্রন্থাগার আন্দোলন ও করনীয় নির্ধারন :

বৃটেনে ১৮৫০ সালে প্রথম গণগ্রন্থাগার আইন পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার ফলে গণশিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক প্রসার লাভ করে। সেই আদলে ভারতবর্ষে তৎকালীন জমিদার, সমাজসেবক, সরকারি কর্মকর্তা ও জনহৈতষী ব্যক্তিদের উদ্যোগে গণশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে ওঠে। এর ঠিক একবছর পরে ১৮৫১ সালে বাংলাদেশে (তৎকালীন অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশ) বেসরকারিভাবে প্রথম একটি গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় যশোরে। ১৮৫৪ সালে একযোগে আরো তিন জেলা সদর পর্যায়ে গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৫৪ সালটিকে বাংলাদেশের গ্রন্থাগার উন্নয়নের ইতিহাসে মাইল ফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। পর্যায়ক্রমে জেলা, মহকুমা ও কতক থানা পর্যায়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যায়। ১৮৮৪ ও ১৮৮৫ সালে যথাক্রমে রাজশাহী ও কুমিল্লা গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গ্রন্থাগার আন্দোলনকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে চলে। ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নোয়াখালী ও সিলেট পাবলিক লাইব্রেরি। এরই মধ্যে ১৮৬৭ সালে Press and Registration Book Act পাশ হলে গ্রন্থাগার আন্দোলনে বহুগুণে গতিসঞ্চারিত হয় এবং সারাদেশের জেলা ও মহকুমা সদরে পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রন্থাগার আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করে।

১৯৫৩ সালে ঢাকায় প্রথম কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান গণগ্রন্থাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে একটি মাইল ফলক উন্মোচন করেন। যা ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রীসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তা উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে গ্রন্থাগার আন্দোলন কোন গতানুগতিক আন্দোলন নয়। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের জন্য খুবই নগণ্য। তারপরও গ্রন্থাগার আন্দোলন থেমে থাকেনি। প্রবাহিত হচ্ছে সাময়ের সাথে তাল মিলিয়ে। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে বই পড়া আন্দোলন তথা পাঠাগার আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে গ্রন্থাগার মুখী করে বই পাঠে উদ্বুদ্ধ করতে যে সকল আলোর যোদ্ধারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি রইল হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন- ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য, সোনার মানুষ গড়তে হবে’ (০৯.০১.১৯৭৩)। আসুন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশকে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প করি। আর সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে। আর সোনার মানুষ গড়তে হলে বই পড়তে হবে এবং সারাদেশে গ্রন্থাগার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে হবে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পাড় করেছে অথচ আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বেসরকারি গণগ্রন্থাগার দেখাশোনার জন্য অধিদপ্তর পর্যন্ত নেই, হাঁসের মধ্যে ডিম যেও আছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, এরও সীমাবদ্ধতার অন্ত নেই। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পাঠাগার দেখাশোনা করার জন্য রয়েছে ‘গ্রন্থাগার মন্ত্রণালয়’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (একই সাথে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী) বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনা-এর প্রতি সবিনয় অনুরোধ, বাংলাদেশের বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের উন্নয়কল্পে গণগ্রন্থাগার মন্ত্রণালয় গঠন করা এখন সময়ের দাবি। মন্ত্রণালয় গঠনের পূর্বে যাঁরা জাতীয়ভাবে বেসরকারি গ্রন্থাগার নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদেরকে নিয়ে একটি ‘বেসরকারি গণগ্রন্থাগার কমিশন’ গঠন করে সারাদেশের বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের উন্নয়ন কাজ পরিচালনার একটি রূপরেখা তৈরী করা। যার মাধ্যমে গ্রন্থাগার কর্মীরা জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠনের কাজে তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।

এবছরের জাতীয় গ্ৰন্থাগার দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার/গ্রামে গ্রামে গ্ৰন্থাগার’, যা গ্ৰন্থাগার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করার সুদূরপ্রসারি চিন্তা। বর্তমান সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে সরকার যদি গ্রামাঞ্চলে গ্ৰন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্ৰহন করে এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অধীনে নিবন্ধিত ও অনুদান প্রাপ্ত ৮০০ বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনে বিশেষ পদক্ষেপ নেন, তবে তা হবে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম মাইলফলক এবং মুজিববর্ষের স্লোগানের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিফলন। ফলে বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগার গুলো টিকে থাকতে পারবে। মানুষ গ্রন্থাগারমুখী হবে। তরুণ ও যুব সমাজকে মাদক ও খারাপ নেশা থেকে ফেরানোর কাজ সহজ হবে। গ্রন্থাগার হবে দিন বদলের হাতিয়ার। চীনের একটি প্রবাদ- ‘তুমি যদি এক বছরের পরিকল্পনা করো তাহলে শস্য রোপণ কর, তুমি যদি দশ বছরের পরিকল্পনা করো তাহলে গাছ লাগাও, আর যদি হাজার বছরের পরিকল্পনা করে থাক তাহলে মানুষ তৈরি কর।’ আসুন আমরা হাজার বছরের পরিকল্পনা করি এবং প্রকৃত মানুষ তৈরি তথা আলোকিত জাতি গঠনে কাজ করি। আলোকিত মানুষ হতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হবে। আর জ্ঞানার্জন করতে হলে অবশ্যই জ্ঞানের ভান্ডার গ্ৰন্থাগারে যেতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস :

আমাদের গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে যিনি সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন, যেখান থেকে আমাদের বইপড়া ও গ্রন্থাগার আন্দোলনে সম্পৃক্ততা এবং যাঁর নামানুসারে উক্ত গ্রন্থাগারের নামকরণ তাঁর সম্পর্কে আলোচনা না করলে আমার লেখা টা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে সংবলিত করা হলো।

রবীন্দ্র চন্দ্র দাস পূর্ব বঙ্গের সিলেট জেলাধীন নবীগঞ্জ থানার ৩৯নং সার্কেলের (জন্তরী পরগনা) ঐতিহ্যবাহী মুক্তাহার গ্রামে এক সংস্কৃতিমনা ও সম্পন্ন পরিবারে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি (বাংলা ১৩৫২ সালের ১লা পৌষ) এক শুভক্ষণে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দীগেন্দ্র চন্দ্র দাস ও মাতা মণিবালা দাস। পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন সংস্কৃতমনা। যাত্রাদলে অভিনয় ও গানের ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ছাড়াই বাউলসংগীত ও লোকসংগীতে পারদর্শিতার পাশাপাশি অভিনয়েও সমান পারঙ্গমনতা অর্জন করেন। তাছাড়া ফুটবলখেলা, হাডুডু, দৌড়, সাঁতার ও বক্তৃতা, প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। নবীগঞ্জ জে, কে হাইস্কুলের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। নবীগঞ্জ জে, কে হাইস্কুলের ১৯৭০ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পড়াশোনা করেন।

কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি চালিয়ে যান তাঁর অন্তরের গভীরতম প্রদেশে লালন করা গান ও অভিনয় চর্চা। তিনি ছাত্র হিসেবে যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি সংসদের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রদের ১১ দফা ও বঙ্গবন্ধুর ৬দফা আন্দোলনের কর্মসূচীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এই সময়টা অর্থ্যাৎ ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালটা ছিল উত্তাল। এই সময়ে তাঁর মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক প্রয়োজনে হবিগঞ্জ আসলে তাঁদের সান্নিধ্যে যাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ হয় তাঁর। মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর (হবিগঞ্জের) রক্তে আগুনলাগা জ্বালাময়ী ভাষণে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সংগ্রামে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে নবীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি পুরুষ শ্যামাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত (বিধুবাবু) এর নেতৃত্বে কাজ শুরু করেন। এলাকায় তখন মুক্তিবাহিনী গঠনের পাশাপাশি চলছে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠনের কাজ।

এরই মধ্যে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস পরিবার পরিজন সহ নিজেদের নৌকায় করে গ্রামের অন্যান্যদের সাথে নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নেন মৈলাম শরনার্থী ক্যাম্পে। মৈলাম শরনার্থী ক্যাম্পে পরিবার-পরিজনদের রেখে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যান্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটিং ক্যাম্পে উপস্থিত হন। রিক্রুটিং ক্যাম্পে ৫ নম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মীর শওকত আলী তাঁকে রিক্রুট করেন। রিক্রুট হওয়া সদস্যদের থেকে শিক্ষিত ও কলেজ ছাত্রদের বাছাই করে আলাদা একটি ব্যাচ তৈরি করে প্রথম ১৫/২০ দিন মেঘালয় রাজ্যের UK&J HILL (ইউনাইটেড কাশিয়া জৈন্তা পাহাড়) ডিংরাই সেন্ট্রাল ইয়ুথ ক্যাম্পে (কেন্দ্রীয় যুব শিবির) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের এক পর্যায়েই পাক-হানাদার বাহিনী ছাতক আক্রমন করে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী দখল করে নেয়। পাক হানাদারদের সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চল থেকে হটানোর জন্য ভারতীয় একটি বাহিনীও পাল্টা আক্রমন করে। ভারতীয় বাহিনীর সাথে এই ব্যাচের রবীন্দ্র চন্দ্র দাস সহ অন্যান্যরাও এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ যখন চরম আকার ধরাণ করলে, ৫ নম্বর সেক্টরের বাছাই করা শিক্ষিত ও সাহসী ৩০ যুবককে নিয়ে (WAR Trained Intiligent and Security Branch) স্পেশাল ব্যাচ-২ গঠন করলে যুব শিবিরের প্রশাসক ভারতীয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব:) এন সি বসাক মহোদয়ের নির্দেশে ৩০ জনের একটি শিক্ষিত যুবকদলকে মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জুয়াই এলাকার ইস্টার্ন কমান্ড ওয়ান (ইকোওয়ান) এ পাঠানো হয়। সেখানে সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা লাল সিং রাহুত সহ কয়েকজন প্রশিক্ষক ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের কার্যক্রমের উপর (WAR Trained Intiligent and Security Branch) ২১দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন রবীন্দ্র চন্দ্র দাস।

ট্রেনিং শেষে এই ৩০ জনকে ৫নম্বর সেক্টরের ৬টি সাব-সেক্টরে ৫জন করে ভাগ করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রেরন করা হয়। তিনি সংগীয় সহযোদ্ধাদের সাথে ৫নম্বর সেক্টরের টেকারঘাট সাব-সেক্টরে আসেন এবং সাব-সেক্টরের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিন ওরফে দীন মোহাম্মদ এর অধীনে মুক্তিযুদ্ধের স্বশস্ত্র পর্বে অংশগ্রহন করেন। একটা সময় ক্যাপ্টেন দীন মোহাম্মদের সাথে কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সমস্যা সৃষ্টি হলে, উপরের নির্দেশে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস বালাট সাব-সেক্টরে চলে আসেন। বালাট সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন এম এ মোত্তাল্লিব। ক্যাপ্টেন এম এ মোত্তাল্লিব সাহেবের অধিনে তিনি- ভাতের টেক, পলাশ, আম বাড়ি, বৈষের ভের, চিনাকান্দি, গৌরারং, টেংরাটিলা, ডলুয়া প্রভৃতি স্থানে যুদ্ধ করেন। এসময় একদিন ৪নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর সি আর দত্ত ক্যাম্প পরিদর্শনে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হয়। বাকি দিনগুলিতে ক্যাপ্টেন এম এ মোত্তাল্লিব সাহেবের কমান্ডেই তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যান।

স্বাধীনতার পর চাকুরি প্রতিযোগিতায় নেমেই আশাতীত সুযোগ পান একই সাথে তিনটি পদে উত্তীর্ণ হয়ে। পদ তিনটি হলো পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর, চা বাগানের টিলা বাবু এবং প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তাঁর পিতার নির্দেশে ও শিক্ষা বিস্তারের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে শিক্ষকতাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। ০১.০৬.১৯৭২ইং তারিখে যোগদান করেন বোরহানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে। ১৯৭৪-১৯৭৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি হবিগঞ্জ প্রাইমারীট্রেনিং ইন্সট্রিটিউশন থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হন। শিক্ষকতা পেশায় অনেক সুনাম অর্জন করেন এবং ১৯৮৬ সালে ‘শ্রেষ্ট শিক্ষক’ নির্বাচিত হন এবং ৩১ জানুয়ারী ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

জীবনাচারে তিনি ছিলেন- ভদ্র, সজ্জন, সংস্কৃতমনা, পরোপকারী, শৌখিন, নির্লোভ, নির্ভিক ও উন্নত রুচির অধীকারী। পড়তেন কালো পেন্টের সাথে সাদা টাইপওয়ালা কিংবা মানান সই শার্ট, কখনো কখনো সাদা পাঞ্জাবির সাথে সাদা পায়জামা বা ধুতি। একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হিসেবে সবাই তাঁকে মান্য করত। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যেমন ছিলেন সক্রিয়, তেমনি তিনি এলাকার বিচার-বৈঠক ও বিভিন্ন সামাজিক অসন্তুষ জনক কর্মকান্ড সমাধানে ছিলেন অগ্রগণ্য। শিক্ষকতা, সামাজিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আসতে আসতে তিনি এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে উঠেন। ‘রবীন্দ্রবাবু’ বা ‘রবীন্দ্র মাস্টারবাবু’ এই নামেই তিনি বিভিন্ন এলাকার সামাজিক ও পেশাজীবী শ্রেণি, নবীগঞ্জের আপামর জনসাধারণ এবং আশেপাশের এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

১৬ ডিসেম্বর অর্থ্যাৎ বিজয় দিবসের দিন রাত ৮.২১ মিনিটে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণকালীন সময়ে সাধনোচিত ধামে গমন করেন ৭১’র অকুতোভয় বীর সেনানী, কিংবদন্তি শিক্ষক ও নবীগঞ্জের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্র চন্দ্র দাস। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মানবতাবোধ সম্পন্ন একজন দেশপ্রমিক তথা আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। আজীবন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে দেশের এক সূর্য সন্তানের প্রস্থান হলো, যা অপূরণীয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, এলাকার শিক্ষাবিস্তার, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নবীগঞ্জের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের এক গৌরবদৃপ্ত ব্যক্তিত্ব হয়ে তিনি বেঁচে রইবে।

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ বেসরকারি গণগ্রন্থাগার পরিষদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ; প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার, মুক্তাহার, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!