1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

পাঠাগার ভ্রমণ-২০২৩ : স্বপ্নের অভিযাত্রায় আমরা ১৮ জন

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৪০২ বার পঠিত

পাঠাগার ভ্রমণ-২০২৩ : স্বপ্নের অভিযাত্রায় আমরা ১৮ জন

নাঈম ইসল

গত ১১ এপ্রিল, ২০২৩ কুড়িগ্রাম জেলার একদল “অরুণ প্রাতের তরুণ দল” অভিনব এক ভ্রমণের আয়োজন করে। বন্ধু পাঠাগার, সাতভিটা গ্রন্থনীড় এবং সশিস পাঠাগার-এর যৌথ আয়োজনে এই ভ্রমণের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিলো কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী এবং নাগেশ্বরী উপজেলার বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা বিভিন্ন পাঠাগার ঘুরে দেখা।

ভ্রমণ প্রতিটি মানুষকে আনন্দ দেয়, শিহরিত করে, নতুন জায়গা এবং নতুন কিছ‚র সঙ্গে পরিচিত করে। নিজেকে ভালো রাখতে কিংবা মনকে প্রফুল্ল রাখতে যেমন ভ্রমণের বিকল্প নেই ঠিক তেমনিভাবে এই ভ্রমণ মানুষকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে আসে। নিখাদ বিনোদনের আশায় মানুষ ভ্রমণে গেলেও এই ভ্রমণ মানুষকে শিক্ষা দেয়, মানুষ ভ্রমণের মাধমে অর্জিত উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগায়। ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত স্মরণীয় না হলেও কিছু স্মৃতি চির অ¤øান হয়ে মানসপটে ভেসে থাকে।

আমরা নিজস্ব সময় এবং অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে থাকি। অথচ আমাদের চারপাশে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য খুঁজতে আমরা কদাচিৎ সময় ব্যয় করি না।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়:-

“বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে

বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে,

দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা

দেখেতি গিয়াছি সিন্ধু।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,

একটি ধানের শিষের উপর

একটি শিশির বিন্দু।”

২০২২ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুর, অর্জুনায় আব্দুস সাত্তার খান ভাইয়ের উদ্যোগে “সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলন” এর ব্যানারে “পাঠাগার সম্মেলন-২০২২” আয়োজিত হয়। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মতো কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন পাঠাগারের সংগঠক, পাঠাগার কর্মী এবং বই প্রেমি মানুষ এই সম্মেলনে যুক্ত ছিলো। উক্ত সম্মেলনে প্রায় ২০০ টিরও অধিক পাঠাগারের প্রায় ৬০০ জন পাঠাগার কর্মী ছাড়াও বই, পাঠক এবং পাঠাগারের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি উপছিত ছিলেন। উক্ত মিলন মেলায় কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাঠাগার কর্মীদের এক প্রাণবন্ত আড্ডায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন পাঠাগার ভ্রমণ করা হবে।

উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হলেও সশিস পাঠাগারের সাবেক সভাপতি এবং স্থায়ী সদস্য জনাব পলাশ কুমার রায় (প্রদর্শক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, কু.স.ক) এর নেতৃত্বে উলিপুর উপজেলার তিনটি পাঠাগারের মোট ১৬ জন সদস্য একটি ব্যতিক্রম ধর্মী ভ্রমণ “পাঠাগার ভ্রমণ-২০২৩” এর আয়োজন করে। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকে ১১ এপ্রিল সকাল ৯ টায় সশিস পাঠাগারে উপস্থিত হই। সেখানে উপস্থিত সবার মধ্যে সফর সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত উপদেশ মূলক বক্তব্য প্রদান করেন জনাব পলাশ কুমার রায় এবং সাতভিটা গ্রন্থনীড়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব জয়লান আবেদীন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা “সরকারি গণ গ্রন্থাগার কুড়িগ্রাম” এর নিবন্ধনকৃত এবং এর বাইরে ব্যক্তিগত/বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মোট ২২ টি পাঠাগারকে টার্গেট করে এই যাত্রা শুরু হয়। আমরা মোট ১৬ জন মন্ডল হাট থেকে এই ভ্রমণে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়িতে একজন করে মোট দুজন যুক্ত হয়। আমরা দুইটি ইজি বাইকে (অটো) স্বপ্নের যাত্রা শুরু করি।

আমাদের প্রথম গন্তব্য কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়িতে অবস্থিত “দিশারী পাঠাগার ও দিশারী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী “। কুড়িগ্রাম জেলার প্রথিতযশা সাংবাদিক, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষক জনাব আব্দুল খালেক ফারুক ১৯৯১ সালে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিনের যাত্রায় বহু বাধা-বিপত্তি ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়ে তিনি “দিশারী পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী”র একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছেন যেটি কাঁঠালবাড়ি বাজার হতে মাত্র ২০০ গজ উত্তরে অবস্থিত। বাজার থেকে পায়ে হেঁটে গিয়ে আমরা দিশারী পাঠাগারে ভবনের সামনে উপস্থিত হলাম। পাঁচ শতক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির দুটি পৃথক কক্ষ রয়েছে যার একটি পাঠাগার কক্ষ এবং অন্যটিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের “রিহার্সাল রুম” হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রায় দেড় হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ পাঠাগার কক্ষটির পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। ৫ টি বুকশেলফে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে সাজানো বই। রয়েছে মুজিব বর্ষের উপহার ‘মুজিব কর্নার’। সব মিলিয়ে পাঠক বসার জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান। পাঠাগারের কার্যক্রমের পাশাপাশি দিশারী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে আব্দুল খালেক ফারুক আমাদের অবহিত করলেন। বৈষম্যের বেড়াজালকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে তিনি এবং তার স্ত্রী যৌথভাবে পশ্চাৎপদ নারীদের দিশারীর সাংস্কৃতিক কর্মকাÐে যুক্ত করছেন সেই বিষয়টি এবং নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাদের কাছে চমৎকার লেগেছে। প্রাণবন্ত আড্ডা শেষে বিদায় বেলায় আমরা তাকে বই এবং ফুল উপহার দিলাম। আর সঙ্গে নিলাম কিছু মধুর স্মৃতি এবং পাঠাগার ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা।

দিশারী পাঠাগার থেকে বেরিয়ে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ফুলবাড়ী উপজেলা। তবে উপজেলা যাওয়ার পথে আমাদের লালমনিরহাট জেলার সাটহর, নারায়ণ, বড়বাড়িতে আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী পাঠাগার দেখার সৌভাগ্য হল। “প্রজ্ঞা গণগ্রন্থাগার” নামের এই পাঠাগারটি পতিষ্ঠা করেছন ডা: অজন্তা রানী সাহা এবং অধ্যাপক ডা. মনীন্দ্র নাথ রায় দম্পতি। উভয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। নিজ বাড়ির উঠোনে স্থাপিত উক্ত পাঠাগারটির ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। প্রায় দেড় হাজার বই সমৃদ্ধ পাঠাগারটিতে ভবিষ্যতে শিশুপার্ক তৈরি এবং শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে জানান উক্ত পাঠাগারের সভাপতি এবং স্থানীয় এক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ফণীন্দ্রনাথ রায়। দূর ঢাকায় থেকেও চিকিৎসক দম্পতির জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখে আমরা সবাই অভিভ‚ত। পাঠাগারটির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা বই পড়ানোর পাশাপাশি স্কাউটিং নিয়ে কাজ করে। স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছে দেশরতœ শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার ‘মুজিব কর্ণার’। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পাঠকদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ পরিচালনা করে। প্রাণবন্ত আড্ডা শেষে বই ও ফুল শুভেচ্ছা হিসেবে উপহার দিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। প্রজ্ঞা গণ গ্রন্থাগার থেকে বেরিয়ে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ধরলা বৌধিত উপজেলা ফুলবাড়ীর কয়েকটি পাঠাগার।

দ্বিতীয় ধরলা সেতু (শেখ হাসিনা ধরলা সেতু) পার হয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম মিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন “বীর প্রতীক বদরুজ্জামান স্মৃতি পাঠাগার”, শিমুলবাড়ী, ফুলবাড়ী। পাঠাগার কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই আমরা সাক্ষাৎ পেলাম উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শরীফুল আলম মিয়া। উল্লেখ্য যে, উক্ত পাঠাগারটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত না হলেও উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিশেষ উদ্যোগে একটি দৃষ্টিনন্দন পাঠাগারে পরিণত হয়েছে। বিশাল হল রুমের ন্যায় পাঠাগার কক্ষটিতে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জনের মত বসার ব্যবস্থা। দেয়ালের সাথে লাগানো বুক সেলফ গুলোতে পর্যাপ্ত বই রয়েছে। গল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ সব বিষয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত সংগ্রহ। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা এবং মিয়া বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জনাব মিজানুর রহমান এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে আমরা বিমোহিত হয়ে গেলাম। পাঠাগার ব্যবস্থাপনা, পাঠক ও বই নিয়ে তাদের পরিকল্পনা আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সহায়তা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বীর প্রতীক বদরুজ্জামান স্মৃতি পাঠাগারটি পাঠাগার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ আব্দুস সাত্তার খানের অনুপ্রেরণায় শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। আব্দুস সাত্তার খানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমাদের এই স্বপ্ন যাত্রায় ফুলবাড়ী থেকে যুক্ত হলেন মোঃ মিজানুর রহমান। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটায় অবস্থিত “গীতিকার তৌহিদ-উল ইসলাম পাঠাগার”। তবে এই যাত্রাপথে আমরা আরেকটি পাঠাগার দেখে থেমে গেলাম। পাঠাগার কর্মী এবং নারী উদ্যোক্তা নার্গিস আক্তার প্রতিষ্ঠা করেছেন “সৈয়দ আমিনুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরি”। কুঠিরচন্দ্র খানায় অবস্থিত এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। এখানে মোট বই সংখ্যা দুই হাজার টি। এই পাঠাগারটিও মুজিব বর্ষের বিশেষ উপহার ‘মুজিব কর্ণার’ পেয়েছে। তবে পাঠাগারের কার্যক্রমকে ছাপিয়েও নার্গিস আক্তার নারীদের নিয়ে হস্তশিল্পের বিভিন্ন কাজ করে থাকেন যেটি অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার।

সৈয়দ আমিনুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য “গীতিকার তৌহিদ-উল ইসলাম পাঠাগার” এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ফুলবাড়ী সদর পেরিয়ে বড়ভিটা পৌঁছানোর আগে আমরা ‘রংধনু পাঠাগার’ ও ‘শুকান দিঘি’ পাঠাগার নামে আরও দুটি পাঠাগারের সামনে থামলেও সেগুলো ছিলো দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। পাঠাগারের প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সচেতনতার অভাব খেয়াল করলাম। নির্দিষ্ট সময় পর পৌঁছে গেলাম গীতিকার তৌহিদ উল ইসলাম পাঠাগারের সামনে। পাঠাগার যাওয়ার রাস্তায় খেয়াল করলাম শিল্পীর সুনিপন হাতে গড়া একটি “তোরন” এবং এর নাম দেয়া হয়েছে “বই মোড়”। উক্ত তোরনে বই আকৃতির স্থাপনায় লেখা কুড়িগ্রামের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত উদ্ধৃতি “জাগো বাহে কোনঠে সবায়”। সৈয়দ হকের প্রতি এরূপ ভালোবাসা দেখে শ্রদ্ধায় মন ভরে গেল। পাঠাগারের সামনে গাড়ি দাঁড়াতেই মুগ্ধ দৃষ্টিতে প্রত্যেকেই চারপাশ দেখতে লাগলাম। একটি আদর্শ পাঠাগার সৃষ্টির জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন সব উপাদানই এখানে বিদ্যমান। পাঠাগার এবং এর চারপাশে চমৎকার সব সৃষ্টিশীল কর্ম দেখে আমাদের মন খুশিতে নেচে উঠলো। আমরা ভুলে গেলাম চৈত্রের কাঠফাটা রোদ, ভুলে গেলাম বয়সের ফারাক। প্রত্যেকে অতি উৎসাহে পাঠাগার এবং এর চারপাশ ঘুরে দেখতে লাগলাম।

এই পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ উল ইসলাম পেশায় একজন শিক্ষক, লেখক ও গীতিকার। ওনার শিল্পীসুলভ ও সংস্কৃতমনা ব্যক্তিত্বের ছাপ ফুটে উঠেছে পাঠাগার সংলগ্ন বাসগৃহে, লেখক জাদুঘরে এবং সৈয়দ হক মুক্ত মঞ্চে। লেখক জাদুঘরের বাইরে শিল্পীর সুনিপন হাতে ভাস্কর্যের ন্যায় হাতে তৈরি গরুর গাড়ির দৃশ্য, নদী-নৌকা কিংবা গ্রামের দৃশ্য আমাদের চিরায়ত গ্রাম বাংলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এছাড়া সৈয়দ হক মুক্ত মঞ্চের পাশে একটি দেয়ালে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কবিতা “নুরল দিনের কথা মনে পড়ে” যায় কবিতার শেষ অংশ। এই মঞ্চে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এছাড়া প্রতিবছর সেরা পাঠক নির্বাচিত করে তাদের সৈয়দ হক পুরস্কার প্রদান করা কিংবা প্রতিবছর কুড়িগ্রাম জেলার দুইজন করে গুণীজনকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান স্বরূপ প্রদান করা হয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি যার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এই মঞ্চে। পাশেই চমৎকার একটি ফুলের বাগান আর তার মাঝে চমৎকার একটি কৃত্রিম ঝর্না দেখতে পেলাম যা উক্ত পরিবেশ কে স্বর্গীয় অংশে পরিণত করেছে। এই বাগানের পাশেই ডানদিকে ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ পাঠাগারটি অবস্থিত। পাঠাগারের সাথেই যুক্ত কৃষি বাগান পাঠাগারের পরিবেশ কে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। পাঠাগারের চারপাশে লাগানো বড় বড় গাছগুলোর কথা না বললেই নয়। পাঠাগার কক্ষে প্রবেশ করতে দেখতে পেলাম বঙ্গবন্ধুর বই পড়া অবস্থায় তোলা একটি চমৎকার ছবির ফ্রেম। আর তার পাশেই বঙ্গবন্ধুর কতগুলো ছবি ছোট ফ্রেমে দেয়ালে টাঙানো আছে। ভেতরে চারপাশ দেখতে দেখতে খেয়াল করলাম পাঠাগারটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। পাঠাগারে রয়েছে প্রায় তিন হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। রয়েছে আধুনিক পাঠাগার ব্যবস্থাপনা, ক্যাটালগ পদ্ধতিতে বইয়ের সাজানো পদ্ধতি কিংবা লেখক বা বিষয়ভিত্তিক বুক-শেলফ। শুধুমাত্র সৈয়দ শামসুল হকের সংগ্রহের জন্য রয়েছে আলাদা একটি বুক শেলফ। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ-উল ইসলামের লেখা বইয়ের সংগ্রহ রাখা আছে একটি নির্দিষ্ট বুক শেলফে। গীতিকার তৌহিদ-উল ইসলাম আমাদের দেখালেন পাঠাগারে বই নিতে আসা পাঠকদের জন্য বয়স ভিত্তিক এবং স্কুল কলেজ ভিত্তিক রেজিস্টার খাতা। এছাড়া আরেকটি দারুন জিনিস আমাদের চমৎকৃত করলো। সেটি হচ্ছে পাঠাগারটি সার্বক্ষণিক সময় খোলা থাকে সবার জন্য। প্রত্যেকে বই নিয়ে নিজে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে বই ফেরত দেয় এবং নতুন বই সংগ্রহ করে। সাথে নেয় পাঠাগারে রাখা চকলেট কিংবা বিস্কুট। একদম বিশ্বস্ততার জায়গা থেকে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান পাঠাগারটির সভাপতি জনাব বিনোদ চন্দ্র রায়। পাঠক সৃষ্টি এমন অভিনব প্রয়াস দেখে আমরা সন্তুষ্টির ঢেঁকুর তুলতে বাধ্য হলাম।

এখানে রয়েছে বই পড়ার জন্য চমৎকার পদ্ধতিতে সাজানো টেবিল চেয়ার। জানালার পাশে ছোট্ট গোল টেবিলে চেয়ার নিয়ে বসে প্রাকৃতিক হাওয়া খেয়ে বই পড়ার এমন সুযোগ মনে হয় কুড়িগ্রাম জেলা কেন বাইরের কোন জেলায় সহজে মিলবে না। পাঠাগারের দেয়ালের উপরের দিকে রয়েছে তিনটি বোর্ড যেগুলোতে কৃতি পাঠকদের নাম, গুণীজন সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম লেখা রয়েছে। পাঠাগারের বাইরে রয়েছে মানবিক কর্নার যেটিতে পুরাতন বই দিয়ে পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করার আহŸান জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে এখান থেকে বই নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমার দেখা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এবং আদর্শ পাঠাগার “গীতিকার তৌহিদ উল ইসলাম পাঠাগার” তাদের উদ্ভাবনী পাঠাগার ব্যবস্থাপনা এবং সৃষ্টিশীল উদ্যোগের জন্য সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার রোল মডেল হবে বলে আমার বিশ্বাস। সারা বছর কয়েকটি বিদ্যালয় এবং কলেজে বই আদান প্রদান করার মত সাহস কেবল তৌহিদুল ইসলাম দেখাতে পারেন। তার প্রস্তাবিত স্বপ্নের সৈয়দ হক কালচারাল ক্লাব দ্রæত বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। ছোট্ট একটি জায়গায় বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য জনাব তৌহিদুল ইসলাম এবং তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী পাঠাগারটির সভাপতি জনাব বিনোদ চন্দ্র রায় কে শুধু ধন্যবাদ দিলে ছোট করা হবে।

উক্ত পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতিকে আমাদের হৃদয়ের গহীন থেকে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানাই। আমাদের মুগ্ধতার মোহজাল কাটিয়ে একটি দূর্বার আড্ডা শেষে ফুল ও বইয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিলাম এই পাঠাগার থেকে। পাঠাগার কতৃপক্ষকে কথা দিলাম আগামী ডিসেম্বরে সবাই আসবো সৈয়দ হককে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তাদের পাঠাগার ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনী কৌশল এবং পাঠক সৃষ্টির কৌশল, বই আদান-প্রদান পদ্ধতি অবশ্যই শিক্ষনীয় এবং আদর্শ উদাহরণ বটে যা আমরা নিজেদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা বলে বিশ্বাস করি।

আমাদের এবারের গন্তব্য নাগেশ্বরী উপজেলার গাগলা বাজার গণগ্রন্থাগার। এই পাঠাগারটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটির সাথে যুক্ত প্রত্যেকেই প্রবীণ। যে বয়সে এসে তাঁদের শেষ জীবনাটা বসে-শুয়ে কাটানোর কথা তার পরিবর্ততে তাঁরা মানুষকে আলোকিত করার কাজ করে যাচ্ছেন। পাঠাগারে রয়েছে ৩০০০ বইয়ের বিশাল ভান্ডার। পাঠাগারটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত। মুজিব বর্ষের বিশেষ উপহার মুজিব কর্নার রয়েছে এই পাঠাগারে।

গাগলা বাজার গণগ্রন্থাগার থেকে বেরিয়ে আমরা নাগেশ্বরী সদরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। উদ্দেশ্য সেখানখার দুটি পাঠাগারে বসে আমাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করা। নাগেশ্বরী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন, হ্যালিপ্যাড কবিরের ভিটা পাশে “সময় পাঠাগার” এ গিয়ে দেখা গেলো বাসার বাইরে একটি কক্ষে চমৎকার পরিবেশে বই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই পাঠাগারটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যার উদ্যোক্তা হলেন শাহানা আক্তার। পাঠাগারে প্রায় ১২০০ বই রয়েছে। সারাদিন পাঠাগার উন্মুক্ত থাকে সবার জন্য। এই পাঠাগারেও মুজিব বর্ষের উপহার মুজিব কর্নার রয়েছে। কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে আমরা বই এবং ফুল উপহার দিয়ে বিদায় নিলাম পরবর্তী পাঠাগারের উদ্দেশ্যে। তবে পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক/দায়িত্বশীল কেউ না পাওয়ায় আমরা “আরিফ আলোর দিশারী পাঠাগার” যাওয়া থেকে বিরত থাকলাম।

নাগেশ্বরী সদর থেকে এবার আমাদের গন্তব্য নাগেশ্বরীর হাসনাবাদের বলাইয়ের পাঠ গ্রামের নারী উদ্যোক্তা এবং পাঠাগার কর্মী ফাতেমা বেগমের “জান্নাতী মহিলা উন্নয়ন সমিতি ও পাঠাগার”। এই পাঠাগারটিও মুজিব বর্ষের বিশেষ উপহার মুজিব কর্নার পেয়েছে। পাঠাগারটিতে বই আছে প্রায় ১০০০ এর অধিক। সবার মাঝে বই নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা সভাপতি ফাতেমা বেগম নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের সাবলম্বী করার কাজ করে থাকেন। এই পাঠাগারেও অভিজ্ঞতা অর্জন করে আমরা বই এবং ফুল উপহার দিয়ে বিদায় নিলাম।

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম (বাচ্চু)র প্রতিষ্ঠিত “ভিতরবন্দ পাবলিক লাইব্রেরি “। ভিতরবন্দ বাজার পার হয়ে পুরাতন জমিদার বাড়ির পাশেই ভবানীপুরে এই পাঠাগার অবস্থিত। সাহিত্য-সংস্কমতি মনা জনাব আমিনুল ইসলাম বাচ্চু নিজের হাতের পরশে এই পাঠাগারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এ বছরের শুরুতে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার পাঠাগার কর্মীদের নিয়ে একটি সম্মেলন/মিলননেলা করেছিলেন। পাঠাগারে গিয়ে দেখলাম পাঠাগারটি দ্বি-তল ভবন বিশিষ্ট। নিচ তলায় পাঠাগার কক্ষ। দেয়ালের পাশে বুক শেলফগুলোতে থরে থরে সাজানো চমৎকার সব বই। লম্বা কয়েকটি টেবিল এবং সাথে কতগুলো চেয়ার। এক কথায় বই পড়ার মতো গোছানো পরিবেশ। এখানেও রয়েছে মুজিব কর্নার। পাঠাগারটির উপরের তলায় রয়েছে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী এবং পাঠকদের জন্য কবিতা আবৃত্তি, নাচ-গানের চর্চার বিশেষ সুযোগ। এছাড়া পাঠাগার ব্যবস্থাপনায় এই পাঠাগারটিও অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছে। জনাব আমিনুল ইসলাম এবং তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানাই। রমজান মাস হওয়ায় বাসা ফেরার পূর্বে এই পাঠাগারের কতৃপক্ষের অনুরোধে সেখানে ইফতার করার সৌভাগ্য হয়েছিল।

আমাদের বাসা ফেরার আগে সর্বশেষ ভ্রমণ ছিলো “শ্রæতি পাঠাগার” শ্রæতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শংকর চন্দ্র বর্মণ নিজের বাসগৃহের দুটি কক্ষের একটিকে পাঠাগারে পরিনত করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। বাকি ঘরে ছোট ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী নিয়ে হাসিমুখে দিন পার করছেন। ভবিষ্যতে বাড়ির সামনে থাকা জমিতে পাঠাগারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার ইচ্ছে আছে তাঁর। পাঠাগারে প্রায় ১৫০০ বই আছে। এই পাঠগারটিও মুজিব বর্ষের উপহার মুজিব কর্নার পেয়েছে। আড্ডা শেষে ফুল ও বইয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিলাম এই পাঠাগার থেকে।

আমি এই লেখায় ভ্রমণ নিয়ে বর্ণনা করলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে বিশেষ সময় ব্যয় করি নাই। চৈত্রের কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করেও আমরা প্রত্যেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করলেও এভাবে দল বেধে ১৮ জন মানুষ পাঠাগার ভ্রমণ করেছে কিনা জানা নেই। ১৩ ঘন্টার জার্নিতে ১০টির বেশি পাঠাগার ভ্রমণ ছিল সত্যি কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। আমাদের এই কষ্ট গুলো স্বার্থক হয়েছে তখন যখন দেখছি এক একটি পাঠাগারের পরিচালনা পদ্ধতি একেক রকম। একেক জন নিবেদিত মানুষ কিভাবে নিজেকে ঢেলে দিয়ে সাজিয়েছে এক একটি পাঠাগার। আমাদের এই সফরে যুক্ত ছিলো বন্ধু পাঠাগারের সভাপতি আরিফ, সোহাগ হাসান বাবু। সশিস পাঠাগার থেকে যুক্ত ছিলেন পলাশ কুমার রায়, ফখরুক ইসলাম, ফিরোজ সুমন, সাকেদুল। সাতভিটা গ্রন্থনীড় থেকে যুক্ত ছিলেন জয়লান আবেদীন, রায়হান, শাহীন এবং মোস্তফা কামাল। কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী থেকে যুক্ত ছিলেন সুজন মোহন্ত এবং মিজানুর রহমান। এছাড়া, আমাদের সাথে থাকা দুটি গাড়ির চালকদ্বয় ও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।

এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিলো ঘুরে বেড়ানো, পাঠাগার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এমন নিবেদিত ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করা, পাঠাগার ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবনী কৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন, পাঠক সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কৌশল আয়ত্ত করা এবং পাঠাগার সমূহতে বিভিন্ন বইয়ের সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতা অর্জন।

এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। ভালোবাসা অবিরাম।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বন্ধু পাঠগার, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!