1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

ফুটবল খেলাও কি হারিয়ে যাচ্ছে?

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৩১ বার পঠিত

ফুটবল খেলাও কি হারিয়ে যাচ্ছে?
লিয়াকত হোসেন খোকন

মোহামেডান -আবাহনীর ফুটবল খেলা একসময় ঢাকার স্টেডিয়ামকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ জনতার ভিড়। বহু খেলোয়াড় পাগল তাঁদের প্রিয় মোহামেডান খেলায় জিতলে দু’চারটা গরু জবাই দিয়ে দিত। ফুটবল খেলা নিয়ে এই তো কয়েকবছর আগেও মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার ঢেউ বয়ে যেত। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে দেখেছি, পিরোজপুরের টাউন স্কুল ও গভট স্কুলের মধ্যে যেদিন খেলা থাকত সেদিন ছিল টানটান উত্তেজনা। ইদ্রিস গোল দিলেই সর্দার বাড়ির বাট্টু চুন্নু ছাতি হাতে নিয়ে দলবল সহকারে খেলা পণ্ড করে দিতে মাঠে নেমে পড়ত। অপরপ্রান্ত থেকে গভট স্কুলের সমর্থকরা লাঠি নিয়ে নেমে পড়ত। তারপর দুই দলে সে কি মারামারি। কারো মাথাও ফেটে যেত। মারামারি থামাতে আসতেন রেফারি নিরোধবরণ সরকার।

আজ বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমাগত অবনতির কারণ কী? মানুষের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে দু’চার বছরের মধ্যে কোন আলোচনাই শুনতে পাচ্ছি না। দেশের ফুটবলের এ দৈন্যদশা কেন? ইদানীং যেন তা প্রকট হচ্ছে। ফুটবল কর্তাদের তা নিয়ে মাথাব্যথা আছে কিনা বোঝা দায়। অলিম্পিক, বিশ্বকাপের কথা উঠতেই আমরা পর্তুগিজ খেলোয়াড় রোনালদোর নাম শুনতে পাই। এসময় জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবল খেলায় কে কে এগিয়ে – এ কথাও কারো মুখে শোনা যায় না। মনে হয়, ফুটবলে বাংলাদেশের তেমন সাফল্য নেই। এদের অবস্থান নেপাল, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তানের কাছাকাছি।

আজ থেকে শতবর্ষেরও বেশি সময় আগে বাঙালিরা খালি পায়েই ফুটবল খেলতেন। জনমানসে স্বাভাবিক ধারণা, ১৯১১ সালে ইষ্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ী দলের প্রত্যেকেই খালি পায়ে খেলেছিলেন। জানা যায়, ফাইনালে মোহনবাগানের সেই চিরস্মরণীয় দলের আর সব ফুটবলার খালি পায়ে খেললেও লেফট ব্যাক সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায় একমাত্র বুট পরে খেলেছিলেন।

মোহনবাগানের শিল্ড জয়ের শতবর্ষী উপলক্ষে অরুণ রায়ের ছায়াছবি ” এগারো ” -তেও সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে চন্দন ভট্টাচার্য বুট পরে অভিনয় করেছিলেন। দূরদর্শী সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায় বুঝেছিলেন, ফুটবলটা বুট পরেই খেলতে হবে। অথচ এর চার দশক পরেও বাংলাদেশের ফুটবলের রথী -মহারথীরা খালি পায়ে খেলে গেছেন। বাংলার বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৮৩ সালের ১২ নভেম্বর। মোহনবাগানে তিনি যোগ দেন ১৯০৪ সালে। এর আগে তিনি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশনে খেলতেন। মোহনবাগানে যখন খেলতেন তখন তিনি কলকাতার লন্ডন মিশনারি সোসাইটি কলেজে ইংরেজি ও ইতিহাসের প্রথিতযশা অধ্যাপক ছিলেন। সেই সময়ে মোহনবাগানের সেই রত্নখচিত দলের তিন মহারত্নের অন্যতম লেফট ব্যাক সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায় আর বাকি দু’জন হলেন শিবদাস ভাদুড়ি ও অভিলাষ ঘোষ, যাঁরা ফাইনালে গোলও করেছিলেন। রাইট ব্যাক ভুতি শুকুল শুক্লার সঙ্গে এমন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করতেন যে গোরাদের সব দল কলেজের অধ্যক্ষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে চেষ্টা করেছিল যাতে তিনি শিল্ডে খেলতে না পারেন। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে গোটা টুর্নামেন্টে তিনি অসাধারণ খেলেছিলেন বলে সেই ঘটনা কিংবদন্তি হয়ে রইল বাংলার ফুটবল খেলার ইতিহাসের পাতায়। তবে এর ফলস্বরূপ সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায়কে কলেজে অধ্যাপনার চাকরিটি হারাতে হয়েছিল। ১৯১৩ সালে হাঁটুতে চোট পান সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায়, ১৯১৪ সালে ফুটবল খেলা থেকে অবসর নেন। অতঃপর মোহনবাগান দলে গোষ্ঠ পাল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায় উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯২৩ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ নেন এবং শিক্ষান্তে ট্রিনিটি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। দেশে ফিরে চব্বিশ পরগণার বিষ্ণুপুরে একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এছাড়াও স্কটিশ চার্চ কলেজ ও উইমেন্স কলেজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালে ভারত – চীনের যুদ্ধের সময় তিনি ভারতীয় ফৌজের সাহায্যার্থে ১৯১১ সালে প্রাপ্ত তাঁর সোনার পদকটি নিলাম করেন। ২০১০ সালে সুধীর কুমার চট্টোপাধ্যায়কে মরণোত্তর মোহনবাগান রত্ন উপাধি দেওয়া হয়। মোহনবাগানের খেলার দিন আমার বাবা মাঠে যেতেন ফুটবল খেলা দেখতে – ১৯৪০ এর দশকের প্রথম দিকে আমার বাবা খেলা দেখতে গিয়ে দেখেন চিত্রনায়িকা কানন দেবীও এসেছেন খেলা দেখতে।

ফুটবল খেলা আজও জনপ্রিয়, তবে বাংলাদেশের কোনো ফুটবল খেলোয়াড় আজ মানুষের মনে কি রেখাপাত করতে পেরেছেন? বোধহয় বাংলাদেশের ফুটবলের সেই গৌরবময় ঐতিহ্য আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ জন্যই আজ সবাই বলে, রোনালদো – রোনালদো। সে তো সাতসমুদ্র তের নদীর ওপারের মনকাড়া এক তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড়। বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়েছে। পুরো নাম তাঁর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দোস সান্তোস আভেইরো । এই পর্তুগিজ খেলোয়াড়ের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদেইরার ফুনচালে। এই রোনালদো ইতিমধ্যে প্রায় ১২০০ টি পেশাদার খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। গোল করেছেন প্রায় এক হাজার। রোনালদোর উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি।

মনে হয়, ফুটবলে বাংলাদেশ একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এখনই উচিত ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্কের মতো দেশগুলিকে মডেল হিসাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশের ফুটবলের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো। তাছাড়া সারাদিন -রাত মোবাইলে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকলে কি ভাবেই বা ফুটবল খেলোয়াড়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে?

লেখক : প্রাবন্ধিক; রূপনগর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!