1. admin@pathagarbarta.com : admin :
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে- ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্মূল কমিটির যৌথ সভা কোটা আন্দোলনকারীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী স্লোগানের নিন্দা জানিয়েছে জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইন ইউকে সমাজকর্মী আনসার আহমেদ উল্লাহকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সংবর্ধনা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান

ব্রিটিশ নিয়ম ছেড়ে দিন

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৪৩ বার পঠিত

ব্রিটিশ নিয়ম ছেড়ে দিন
লিয়াকত হোসেন খোকন

একটি কাগজ দিয়ে একটি সমাজ ও একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। এতো কাগজ যায় কত দপ্তরে-অফিসারদের দেখার সময় থাকে না। চাকরিতে প্রথম যোগদান করার পর প্রথম ৬ মাস থেকে এক বছর এই কাগজকে সকলে খুব গুরুত্ব দেন। ধীরে ধীরে এই ঘটনাগুলি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়। কিন্তু যার কাছ থেকে এই কাগজ আসে, তার কাছে এটা অতি সাধারণ। কেননা এই কাগজের জবাব পেতে বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। একটা কাজের জন্য কতটা সময় অপেক্ষা করতে হয়, সেটা বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকেই বোঝা যায়। দু’মিনিটের কাজ করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় ভুক্তভোগীকে। এখনও ব্রিটিশ নিয়ম চলছে। জানিনা, বুঝিনা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরগুলি ব্রিটিশদের এমনটা নিয়ম ভেঙে দিতে পারবে কবে, কত কাল আর অপেক্ষা। কেন পারে না সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি ব্রিটিশদের নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে।

আর এজন্যই কি আমরা পিছিয়ে রয়েছি? বিশেষকরে, একজন আইনজীবী একটি মামলা হাতে নিয়ে মক্কেলকে ধরে রাখে বছরের পর বছর ধরে। মক্কেলের মৃত্যু হলে অতঃপর পরবর্তী প্রজন্ম ঐ মামলার মুখোমুখি হন। কি বিচিত্র ব্রিটিশ আইন। এদিকে মানুষ সরকারি অফিসে বা দপ্তরে যায় গুরুত্ব পেতে বা সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য। বছরের পর বছর একটি জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আর এর মধ্যেই কত কি পরিবর্তন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এই ফাইলগুলি ইচ্ছে করলে নিষ্পত্তি করতে পারে, কিন্তু করে না। কেন এমনটা হয়? এ প্রশ্নের উত্তরে হয়তো অনেকে চিৎকার দিয়ে বলতে বাধ্য হবেন, ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না।

উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য বহুলাংশে ফাইল আটকে থাকে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে কারো কারো বিভিন্ন ঘটনা হয়তো জানা আছে। একসময়ে কর্মচারীর সংখ্যাও কম ছিল। বেতন বাবদ অনেক কম টাকা ধরা হতো। কিন্তু এখন বহু টাকা বরাদ্দ করা হয়। দপ্তর বেড়েছে, ফলে প্রশাসনের পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। চাপও বেড়েছে। পূর্বের তুলনায় কাজ অনেকটা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মারা গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর ফাইল থেকেই গেছে। ঢিলেমির জন্য একাজ হয়েছে। এ ধরনের প্রশাসন চলতে থাকলে মানুষের মনে একসময়ে অসন্তুষ্টির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু দপ্তরে বসে সেটা অনুভব করা যায় না। কেননা, যারা কাজ করে দেবেন তাঁদের এ কথা বোধগম্য হয় না। সবাই ভাবেন যে আমরা কর্তব্য পালন করছি, কর্তব্যের গাফিলতি করছি না। এমনটা ভাবনা নিয়ে তাঁরা চেয়ারে বসে থাকেন। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে বিচার -বুদ্ধির দ্বারা তাঁরা নিজেদেরকে যাচাই করে না। বরং তারা সিনিয়র অফিসারদের সন্তুষ্ট করতে সার্বক্ষণিক ব্যতিব্যস্ত থাকে। এতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় থেকে যায়। কিন্তু তাদের কাজ যাচাই করার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অসন্তুষ্টির বাতাবরণ তৈরি হয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও হয়। সরকারের উপর ক্ষুন্নতা এভাবেই বেড়ে যায়। এরজন্য প্রতিটি সরকারের প্রথম বছরে কোনও আন্দোলন হয় না। তবে সরকার পুরনো হওয়ায় আন্দোলন, ধর্না, প্রতিবাদ মিছিল মিটিং সমাবেশ বেড়ে যায়। সরকারের প্রতি মানুষের মনে হতাশা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বছরের পর বছর যদি এমনটা হয়, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দেন মানুষ।

তবে আশার কথা, বর্তমান সরকার এখন ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে মুক্ত হচ্ছে। চলছে ভিন্ন পথে – ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরেই এমনটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। মানুষ এখন বিকাশ ও উন্নয়ন চাইছেন। এই বাতাবরণ তৈরি করার ক্ষেত্রে সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে বাংলাদেশকে নতুন দিকে নিতেই হবে। এর জন্য সব প্রস্তুত আছে। তবে মানুষকে মানুষের মতো হতে হবে – ঘুষ ও দুর্নীতি ছেড়ে দিয়ে খাঁটি মানুষ রূপে তাদেরকে প্রমাণিত করার বিকল্প কিছু নেই। আর তা না হলে কয়েক বছর পরে মানুষকে কোনও জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই এটাই সুবর্ণ সুযোগ। এর সদ্ব্যবহার করাটা খুবই জরুরি। মানুষের আশা আকাঙ্খাকে গুরুত্ব দিতে হবে, যেহেতু মানুষ একাজ করতে কর্মকর্তা -কর্মচারীদের সুযোগ দিয়েছে। সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সকলকেই।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরগ্রহণের পর সম্মুখীন হওয়ার বিভিন্ন সমস্যার কথাও উত্থাপন করেন অনেকেই। বলেন, এক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়রানির সম্মুখীন হতে দেখা যায়। কিন্তু চাকরি জীবনে থাকাকালীন অবসরগ্রহণ করবেন, এমনই মনোভাব থাকায় পরবর্তীতে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। গোটা ব্যবস্থাকে সহজ করতে হবে। কিন্তু অবসরের পর একজন কর্মচারী ডিলিং অ্যাসিস্ট্যানট থেকে প্রিন্সিপাল -সেক্রেটারি পর্যন্ত বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। কেন এমনটা হয়? অতীতে বা চাকরিরত অবস্থায় মানুষের কাজ করে দেওয়ার নাম করে তাদের পকেট মারার করুণ পরিণতি নয় কী? ঘুষকে না বলুন, দুর্নীতি ছাড়ুন, ব্রিটিশ নিয়ম ছাড়ুন তবেই দেশ ও জাতির মঙ্গল হবে আর এই মঙ্গলের মধ্যে রবে সবার কল্যাণ।

লেখক : প্রাবন্ধিক; রূপনগর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!