1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভুয়ামুক্ত তালিকা প্রণয়ন বিষয়ে সাংসদরা নীরব কেনো?

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩
  • ২২৭ বার পঠিত

মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভুয়ামুক্ত তালিকা প্রণয়ন বিষয়ে সাংসদরা নীরব কেনো?

আবীর আহাদ

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শৌর্য ত্যাগ রক্ত ও বীরত্বের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই অনেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছেন। হয়েছেন মন্ত্রী। উপদেষ্টা। আরো কতো কী! এসব সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা বীর মুক্তিযোদ্ধাও। জাতীয় সংবিধানে যে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই, মুক্তিযোদ্ধা না-হয়েও যে বিপুলসংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকাররাও মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছে, সেসব তারা জেনেও কেনো যে গভীর নীরবতা পালন করে আসছেন তা আমাদের একেবারেই বুঝে আসে না! এ দুটি বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও জনসমাজে বিপুল আলোচনা-সমালোচনা এবং এগুলো সমাধানের প্রবল দাবি উঠলেও জাতীয় সংসদে অবস্থানকারী সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপন করার এখতিয়ার থাকলেও তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন! তাদেরই বা দুর্বলতা কোথায়? কেউ এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে নিষেধ করেছেন কিনা তাও আমরা জানি না! তবে তাদের হাবভাব দেখে মনে হয়, কেউ বা কারা পর্দার আড়ালে কলকাঠি নাড়ছেন! মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে না! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাতিল করা হবে না!

আজ বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। অনেকেই এদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, সেনাপতি, বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ আরো অনেক কিছু হয়েছেন হচ্ছেন ও হবেন—-এসব বড়োই পরিতৃপ্তি ও গর্বের বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশটি টেবিলের আলোচনায় বসে স্বাধীন হয়নি। একটি বিশ্বালোড়িত রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আর সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পশ্চাতে রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধার সীমাহীন শৌর্য বীর্য ত্যাগ রক্ত ও বীরত্বের অবদান ।

কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয়, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশের জাতীয় সংবিধানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দ দু’টি স্থান পায়নি! আমরা মনে করি না এটি সংবিধান প্রণেতারা ইচ্ছেকৃতভাবে শব্দ দু’টি এড়িয়ে গিয়েছেন। হয়তো সংবিধান রচনায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এটি হতে পারে। অনেক দেরিতে হলেও আমিই সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এ-বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় এনে শব্দ দু’টি সংবিধানের যথাযথ স্থানে সংযোজন করার দাবি জানিয়ে আসছি। দাবিটি এখন মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সংবিধানে শব্দ দু’টি বিশেষ করে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি লিপিবদ্ধ না থাকার ফলে চরম ইতিহাস বিকৃতি ঘটছে। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে গোলমালের বছর, গৃহযুদ্ধ, ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ইত্যাকার অপবিশেষণে মণ্ডিত করে গোটা রক্তাক্ত মুক্তিসংগ্রামের পথ বেয়ে অনুষ্ঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে থাকেন!

অনেক বিদগ্ধজন এ-যুক্তি পেশ করেন যে, মুক্তিসংগ্রামই মুক্তিযুদ্ধের নামান্তর। তাই যদি হবে তাহলে বাংলা ভাষার অভিধানে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দ দুটি ভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ হতো না। এমনকি ইংরেজি ভাষায়ও এ-দু’টি শব্দের ভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন, Liberation Struggle (মুক্তিসংগ্রাম) ও Liberation War / War of Liberation (মুক্তিযুদ্ধ) । মুক্তিযুদ্ধ হলো একটি জাতির জাতীয় স্বাধীনতা ও আর্থসামাজিক মুক্তি তথা জাতির সার্বিক মুক্তির আকাঙ্খা, আর সেই মুক্তির আকাঙ্খা বাস্তবায়নের প্রয়োজনে সংগঠিত হয় যে সশস্ত্র যুদ্ধ—- সেটিই মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর সুমহান নেতৃত্বে সেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এখানে ঐতিহাসিক ও দার্শনিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ বা সশস্ত্র যুদ্ধই মুখ্য। এমনকি ২৬মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার বাণীতে বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র যুদ্ধেরই নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

অনেকে যারা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও জীবনের মায়া ও দেশপ্রেমের অভাবে তাতে অংশগ্রহণ করেননি এবং অনেকে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলো, তারা তাদের মানসিক দৈন্যতা ও পরশ্রীকাতরতার জন্যে মুক্তিযুদ্ধকে এখনো মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম শুনলে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়। অথচ তারাই মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় ফসল দু’হাতে লুটেপুটে খাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গাত্রদাহের মুখ্য কারণ হলো, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সিংহভাগই ছিলেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। সেই দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা দেশটি স্বাধীন করে এমন একটি ঐতিহাসিক কাজ করে ফেলেছেন যার ফলে তথাকথিত ধনিক ও সুবিধাবাদী-পরজীবী শ্রেণী সহজে তাদের স্বীকৃতি দিতে চান না! তাদেরই অনেকেই আবার অর্থ আত্মীয়তা ও রাজনৈতিক সংযোগে মুক্তিযোদ্ধা বনেও গেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা সবার আগে লুটে নিয়েছেন। এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং ভুয়ামুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বিষয়ে একেবারেই নীরবই শুধু নয়, এসব দাবির বিপক্ষে তাদের অবস্থান। তারা মনে করে, মুক্তিযোদ্ধা হতে পেরেছি, এটাই তো গর্বের, আর কী? এরাই মূলত: মুক্তিযোদ্ধাদের চরম শত্রু। আর শাসকগোষ্ঠী ? তারা মুক্তিযুদ্ধের সবটুকু ফসল ভোগ করে আসছেন, কিন্তু তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় মর্যাদা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদাসীন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরই প্রতিষ্ঠিত দেশে মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বদান্যতায় মুক্তিযোদ্ধারা একটি যৎকিঞ্চিত মাসিক ভাতা পাচ্ছেন।

জাতীয় সংবিধানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দ দুটি সংযোজনের বিষয়ে অনেকে এ-অভিমত প্রকাশ করেন যে, যেহেতু বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া সংবিধানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দদ্বয় সংযোজিত হয়নি, সেহেতু এখন সংবিধানে তা লিপিবদ্ধ করা যাবে না। ৭২ সালের সংবিধানে তো অনেক কিছুই লিপিবদ্ধ হয়নি বিধায় বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সংবিধানে নতুন অনেক কিছুই লিপিবদ্ধ হয়েছে। সংবিধান কোনো কোরআনের বাণী নয় যে তাতে হাত দেয়া যাবে না। জাতীয় স্বার্থে ও সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন পরিবর্ধন সংযোজন ও বিয়োজন হতেই পারে। তা হয়েছে হচ্ছে এবং হবেই। সেক্ষেত্রে জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দদ্বয় সংবিধানে সন্নিবেশিত হলে বরং আমাদের জাতীয় মর্যাদা ও গরিমা অধিকতর মহিমান্বিতই হয়।

এ-বিষয়টি বঙ্গবন্ধু-কন্যা এবং জাতীয় সংসদের সদস্যরা সুবিবেচনায় নিতে পারেন। এটা তিনিসহ গোটা বাঙালি জাতি ও বিশ্ববাসী জানেন যে, তাঁর মহান পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। তাঁর নামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকারের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতিও ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর দুই গর্বিত ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামালসহ তাঁর তাঁর বংশধর ও আত্মীয়স্বজন ছিলেন সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রথমসারির সংগঠক-মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর সরকারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দদ্বয় যদি সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় তাহলে তিনিসহ তাঁর গোটা পরিবার ও বংশধর সবচেয়ে আরো বেশি মহিমান্বিত, আরো বেশি গর্বিত ও আরো বেশি সম্মানিত হবেন।

আমরা তো এও জানি, জাতীয়, সময় ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রয়োজনে জাতীয় সংবিধানে অনেক সংশোধনী সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে। সে-ক্ষেত্রে জাতীয় ইতিহাস ও মর্যাদার প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শব্দ দু’টি সংবিধানে সংযোজন করতে অসুবিধা থাকার তো কোনো কারণ নেই! মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বসুযোগ ভোগ করা যাবে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা যাবে না, এটা কি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবজ্ঞা নয়?

এবার আসি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা কারা—-এ-বিষয়ে বঙ্গবন্ধুই সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন। সেটি হলো, ‘মুক্তিযোদ্ধা মানে এমন একজন ব্যক্তি যিনি যে-কোনো একটি সংগঠিত দলের (ফোর্স) সদস্য হিশেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।’ বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার আলোকে সশস্ত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই দেড় লক্ষের বেশি হবে না। কিন্তু আজ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু’লক্ষ একত্রিশ হাজারের উর্দ্ধে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় যে, বঙ্গবন্ধুর সেই কালজয়ী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের নানান গোঁজামিলের সংজ্ঞার সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকারদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি অমুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় অর্থ ও অন্যান্য সুবিধাদি ভোগ করছে বিধায়, উনিশশো বাহাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার আলোকে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়নের জন্য একটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা বলেছি । কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকার এসব বিষয়ে বিন্দুমাত্র ইতিবাচক চিন্তা করছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। ফলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ অপমানিত ও ব্যথিত হৃদয় নিয়ে মর্মাহত জীবনযাপন করছি।

পরিশেষে সরকার, জাতীয় সংসদের সদস্য ও সচেতন দেশবাসীর উদ্দেশে আমাদের নিবেদন এই যে, জাতীয় ইতিহাস, মর্যাদা ও জাত্যাভিমান বিষয়ে অস্পষ্টতা ও ধুম্রজাল সৃষ্টি করে রাখা ইতিহাস ও সভ্যতা-ভব্যতা বিকৃতির সামিল। যে দেশটি একটি বিশ্বালোড়িত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সীমাহীন শৌর্য বীর্য ত্যাগ রক্ত ও বীরত্বে পৃথিবীতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিশেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতি অবশ্যই আমাদের জাতীয় সংবিধানের যথাযথ স্থানে সন্নিবেশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস ও মর্যাদার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত বীরসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ ও সঠিক তালিকা প্রণীত হওয়া একান্ত জরুরী বলে আমি মনে করি।

লেখক : সভাপতি, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!