1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

লক্ষ্মীপুর সরকারি গণগ্রন্থাগার দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে কার্যক্রম

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২
  • ১৭৮ বার পঠিত

পাঠাগার বার্তা ডেস্ক : মানবিক মানুষ সৃষ্টিতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার। প্রতিদিন এ গণগ্রন্থাগার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার গড়ে দুই শতাধিক বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পছন্দের লেখকের বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করছেন তারা। তবে পাঠকদের সমাগম থাকলেও জনবল ও আসনের তীব্র সংকট এ গণগ্রন্থাগারে। মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ গণগন্থাগারের কার্যক্রম। এতে সেবা দিতে তারা যেমন হিমশিম খাচ্ছেন, তেমনি বই পড়তে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পাঠকরা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সরকারি এ গণগ্রন্থাগারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আটটি পদ রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে দায়িত্বে তিনজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এর মধ্যে লাইব্রেরিয়ান পদে সোনিয়া চৌধুরী নামে একজনকে কর্মরত দেখানো হলেও তিনি ঢাকার সুফিয়া কামাল গ্রন্থাগারে অফিস করেন বলে জানা গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে লাইব্রেরি সহকারী পদে আছেন কাওছার শেখ ও নিরাপত্তা প্রহরী পদে মো. ইসমাইল হোসেন কর্মরত। বাকি পাঁচটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

শূন্যপদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, বুক সটার, অফিস সহকারী ও ক্যাটালগার। পাঁচটি পদের অতিরিক্ত দায়িত্বভার পড়ায় প্রতিদিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বেগ খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত দুজনকে।

যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান পদে থাকার বিষয় অস্বীকার করেন লাইব্রেরিয়ান সোনিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, নিয়োগের শুরু থেকেই তিনি ঢাকার সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারে পদায়ন আছেন। লক্ষ্মীপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের কোনো দায়িত্বেই তিনি নেই। কর্তৃপক্ষ ভুলবশত ওয়েবসাইটে নাম লিখে রেখেছেন বলে তিনি জানান।

জেলার সরকারি গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ তেমুহনীর রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের পূর্বপাশে ৩৩ শতাংশ এরিয়ার মাঝে সরকারিভাবে এক তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে গড়ে তোলা হয় জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার। এরপর নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। গণগ্রন্থাগার ভবনে পাঠকদের জন্য একটি পাঠ্যকক্ষ, দুটি অফিস কক্ষ ও একটি স্টোররুম রয়েছে। অতিরিক্ত কোনো কক্ষ না থাকায় পাঠ্যকক্ষের ভেতরেই বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে জেলার এ গণগ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ নানা বিষয়ের ৩১ হাজার ৫০০টি বই/সাহিত্যকর্ম রয়েছে। গণগ্রন্থাগারটি স্থাপনার শুরুতে পাঠকদের জনপ্রিয়তা কিছুটা কম থাকলেও করোনা-পরবর্তী সময় পাঠকের সমাগম প্রতিনিয়তই বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৮০-২০০ পাঠক এ গ্রন্থাগারে বই পড়তে আসেন। পাঠকদের মধ্যে চাকরিপ্রত্যাশীদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বইপ্রেমীরা। কিন্তু আসন সংকটে বই বড়তে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

কলেজের শিক্ষার্থী বাবু, জোসেফ ও শিক্ষক মো. হাসান বলেন, একটু নিরিবিলি বই পড়ার জন্য এ গন্থাগারে যেতে হয় তাদের। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তির শিকার। একটি কক্ষেই সবাইকে বই পড়তে হয়। অনেক সময়ই বসার জন্য আসনও পাওয়া যায় না। আবার দারোয়ান থেকে শুরু করে গ্রন্থাগারের সব কাজেই দুজন ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। এতে সেবা পেতেও কষ্ট হচ্ছে পাঠকদের।

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস বলেন, গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানচর্চার স্থান। কিন্তু সেখানে ভোগান্তি থাকলে জ্ঞানের চর্চা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের নিরাপত্তাপ্রহরী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, রাতে নিরাপত্তার প্রহরীর দায়িত্ব পালনের পর সকাল থেকে সারা দিন অফিস সহকারী-পিয়ন ও পাঠ্যকক্ষের কাজ করতেই পুরো দিন পার হয়ে যায়। তিন পদের কাজ তাকেই একা সামাল দিতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সংকটের বিষয় স্বীকার করে সহকারী লাইব্রেরিয়ান কাওছার শেখ বণিক বার্তাকে বলেন, সংকট থাকলেও পাঠক সেবার মান বজায় রাখতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রচার প্রচারণাসহ বিভিন্ন দিবসগুলোয় জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়। তবে জনবল ও আসন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণসহ জনবলের সংকট নিরসন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!