1. admin@pathagarbarta.com : admin :
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে- ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্মূল কমিটির যৌথ সভা কোটা আন্দোলনকারীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী স্লোগানের নিন্দা জানিয়েছে জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইন ইউকে সমাজকর্মী আনসার আহমেদ উল্লাহকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সংবর্ধনা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান

সিলেটের মুরারীচাঁদ কলেজ ও প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায়

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২
  • ২১১ বার পঠিত

সিলেটের মুরারীচাঁদ কলেজ ও
প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায়

কৃষিবিদ জয়নাল হোসেন

সিলেট সদরের রায়নগরের রাজা গিরিশচন্দ্র রায় কর্তৃক ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মুরারীচাঁদ কলেজ হচ্ছে তদানীন্তন আসাম রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মহাবিদ্যালয় (গুয়াহাটিতে ১৯০১ সালে সরকারি উদ্যোগে চিফ কমিশনার স্যার হেনরি স্টেডম্যান কটনের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় কটন কলেজ যা এমসি কলেজ প্রতিষ্ঠার নয় বছর পরে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি আসাম রাজ্যের দ্বিতীয় কলেজ)। মুরারীচাঁদ কলেজ হচ্ছে আসামের সিলেট জেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত একটি শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

রাজা গিরিশচন্দ্র রায় (১৮৪৫-১৯০৮) সিলেটের বালাগঞ্জের বোয়ালজুর পরগনার চারভিটা গ্রামে ১৮৪৫ সালে ব্রজগোবিন্দ নন্দীর জন্ম। তার পিতার নাম দীপচন্দ্র নন্দী। সিলেটের রায়নগরের বিখ্যাত জমিদার দেওয়ান মানিকচাঁদের পুত্র মুরারীচাঁদের সন্তানহীনা কন্যা ব্রজসুন্দরী দেবী চারভিটা গ্রামের দীপচন্দ্র নন্দীর পুত্র ব্রজগোবিন্দ নন্দীকে ৫ বছর বয়সের সময় দত্তক হিসাবে নিয়ে এসে নতুন নামকরণ করেন গিরিশচন্দ্র রায়। চারভিটার ব্রজ গোবিন্দনন্দী রায়নগরে এসে হলেন গিরিশচন্দ্র রায়।

বাল্যকাল ও বিবাহ : ব্রজসুন্দরী দেবীর অতিশয় আদরে গিরিশচন্দ্র রায় লেখাপড়া না করে বখাটে সন্তানে পরিণত হয়। গিরিশচন্দ্র রায়ের ভবিস্যৎ চিন্তায় ব্রজসুন্দরী দেবী শঙ্কিত হয়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের পর গিরিশচন্দ্র রায় এক পুত্র ও এক কন্যার জনক হলেন। দুর্ভাগ্য ,তার পুত্র সন্তানটি অল্প বয়সেই মারা যায়। বিবাহ গিরিশচন্দ্র রায়ের জীবনের মোড় ঘুরাতে পারেনি। গিরিশচন্দ্র অধঃপতনের শেষ সীমায় পৌঁছলেন। পরিবারের সঞ্চিত টাকা শেষ,মহাল বিক্রি করতে শুরু করলেন। সিলেটের সমাজে গিরিশচন্দ্র রায়ের আর কোন স্থান রইল না। গণ্যমান্য সমাজে তিনি হলেন অপাংক্তেয়।

১৮৭৪ সালে সিলেটকে আসাম ভুক্তি উপলক্ষে এক দরবারে বড় লাট নর্থব্রুক সিলেট আসেন। গভর্নর জেনারেল নর্থ ব্রুক এর সিলেট আগমন উপলক্ষে সিলেট শহরকে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তোলার লক্ষে কুলাউড়ার পৃথ্বিমপাশার বিখ্যাত জমিদার নবাব আলী আহমেদ খাঁন(মৃ. ১৮৭৪) সে বছর তার ছেলে আলী আমজাদ খাঁন (১৮৭১-১৯০৫) এর নামে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের কাছে বর্তমান ক্বীন ব্রিজের পাশে একটি ক্লক টাওয়ার স্থাপন করেন। এটাই আলী আমজাদ খাঁন এর ঘড়ি নামে বিখ্যাত।

গিরিশচন্দ্র রায় দরবারের আমন্ত্রণ থেকে বাদ পড়লেন। এই ঘটনা গিরিশচন্দ্র রায়ের জীবনে শাপে বর হিসাবে দেখা দেয়। নিজের সামাজিক করুণ অবস্থা ভালভাবেই টের পেলেন গিরিশচন্দ্র রায়। তখন থেকে তিনি ভালভাবে জীবন যাপনের জন্য সংকল্প করলেন। সিলেটে তখন ডেপুটি স্কুল ইন্সপেক্টর ছিলেন নবকিশোর সেন যিনি ছিলেন সিলেটে ইংরেজি শিক্ষার প্রবক্তা। ভাগ্যক্রমে গিরিশচন্দ্র রায় নবকিশোর সেনকে ফ্রেন্ড, ফিলোসফার ও গাইড হিসাবে পেলেন। সে সময়ে নবাব তালাব বঙ্গ বিদ্যালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন জিন্দাবাজারের কৃ্ষ্ণচরণ দাস। নবকিশোর সেনের পরামর্শে ও প্রচেষ্টায় ১৮৭৬ সালে গিরিশচন্দ্র রায় কৃ্ষ্ণচরণ দাসের নিকট থেকে বঙ্গ বিদ্যালয়ের স্বত্ত্ব কিনে নেন। স্বত্ত্ব ক্রয়কৃত স্কুলের নাম রাখেন গিরিশ বঙ্গ বিদ্যালয়। স্কুলটি পরে তাঁতি পাড়ায় স্থানান্তরিত হয়ে গিরিশচন্দ্র এম ই স্কুলে পরিণত হয়। গিরিশ বঙ্গ বিদ্যালয় পরে হয় এইডেড মধ্য ইংরেজি স্কুল। বর্তমানে এটি এইডেড হাই স্কুল নামে পরিচিত। এবার বিদ্যোৎসাহী হিসাবে গিরিশচন্দ্র সম্মানসূচক সার্টিফিকেট লাভ করেন।

সিলেটের বন্দরবাজারে নিজ নামে গিরিশচন্দ্র হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার পর একই ক্যাম্পাসে ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মাতামহীর নামে মুরারীচাঁদ হাই স্কুল। ১৮৯১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে মুরারীচাঁদ স্কুলে এফএ ক্লাস চালু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯২ সালের ২৭শে জুন মুরারীচাঁদ স্কুলকে মুরারীচাঁদ কলেজে উন্নীত করে। এটি আসামের প্রথম কলেজ এবং বর্তমান বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এটি সপ্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( ১. ১৮৪১ সালে ঢাকা কলেজ, ২. ১৮৬৯ সালে রাজশাহী কলেজ, ৩. ১৮৭৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজ, ৪. ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ কলেজ,৫. ১৮৮৬ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ, ৬. ১৮৮৯ সালে বরিশাল বিএম কলেজ,৭. ১৮৯২ সালে মুরারীচাঁদ কলেজ)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে এফএ. ক্লাস খোলার অনুমতি দিলে ১৮৯২ সালের ২৭ জুন চার জন অধ্যাপক ও আঠার জন ছাত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুরারীচাঁদ কলেজের যাত্রা শুরু হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন শ্রী সতীশচন্দ্র রায়।
শিক্ষা প্রসারে রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৯৫ সালে তাকে রায় বাহাদুর উপাধি প্রদান করেন। ১৮৯৭ সালে সিলেট জেলায় ভীষণ ভূমিকম্প হয়। সিলেট শহর এতে উলট পালট হয়ে যায়। গিরিশচন্দ্র রায়ের নিজের বাড়ি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পূর্ণ চুরমার হয়ে যায়। ভূমিকম্পের সময় দালান তার উপর ভেঙ্গে পড়ে। তিনি আঘাত পেয়ে আহত হয়ে যখন নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায় ছিলেন সে সময়ে মটাই মিয়া নামক জনৈক গরীব লোকের বিচক্ষণতায় ও তাৎক্ষণিক সাহায্যে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কৃতজ্ঞতার চিহ্ন স্বরূপ তিনি মটাই মিয়াকে আজীবন ৫ টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করে যান।

রায় বাহাদুর গিরিশচন্দ্র রায় ১৮৯৯ সালে সরকার থেকে রাজা উপাধিতে ভূষিত হন। জমিদার গিরিশচন্দ্র রায় সিলেটের প্রথম রায় বাহাদুর ও একমাত্র রাজা খেতাব প্রাপ্ত ব্যক্তি। গিরিশচন্দ্র রায় তার মায়ের সব কথা মেনে চলতেন। কোনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে গিরিশচন্দ্র রায় মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসতেন। গিরিশচন্দ্র রায় শেখঘাট হাসপাতালে ব্রজসুন্দরী ওয়ার্ড নির্মাণ করিয়ে দেন।
১৯০৬ সালে ব্রজসুন্দরী দেবী মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে গিরিশচন্দ্র রায়ের মন ও স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যায়। দানশীল, মহানুভব ও শিক্ষা উদ্যোক্তা গিরিশচন্দ্র রায় ১৯০৮ সালে ৬২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

এমসি কলেজের ক্রমবিকাশ : আগেই বলা হয়েছে ১৮৯২ সালের ২৭শে জুন সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ চারজন শিক্ষক ও আঠার জন ছাত্র নিয়ে সূচনা হয়। কলেজের প্রথম মুসলিম ছাত্র ছিলেন আবদুল খালিক চৌধুরী আর প্রথম ছাত্রী ছিলেন বীণা দত্ত যিনি ১৯১৯ সালে মুরারী চাঁদ কলেজ থেকেই বিএ পাস করেন এবং তখনকার সময়ে তিনিই একমাত্র ছাত্রী ছিলেন।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পরে সরকারের কাছে কটন কলেজ অগ্রাধিকার পায় এবং সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজের ক্ষেত্রে ‘পর্যবেক্ষণ ও অপেক্ষা করা’র নীতি অবলম্বন করা হয়। ১৯০৬ সালে ইংরেজ সরকারের বিধান অনুসারে ইউনিভার্সিটি রেগুলেশন এর নতুন বিধান অনুযায়ী কলেজটির ভবন সংস্কার, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুবিধাদি সৃষ্টি অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কলেজের আর্থিক সংকটের কারণে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় সরকারের কাছে অনুদানের আবেদন করেন। ১৯০৮ সালে এপ্রিল মাসে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায় মৃত্যুব পর কলেজের অচলাবস্থা কাটানোর জন্য জুন মাস থেকে মাসে ৫০০ টাকা অনুদান লাভ করায় কলেজটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। ১৯০৯ সালে সরকারি অনুদান ৮০০ টাকায় উন্নীত হয়। সে সময়ে কলেজটিকে সরকারিকরণের প্রস্তাব করা হয়। তখন সিলেটের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি এবং রায় বাহাদুর দুলাল চন্দ্র দেবকে সম্পাদক করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কলেজটিকে দ্বিতীয় শ্রেণির উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে শহরের চৌহাট্টা এলাকায় তখনকার পিটারসন স্ট্রিটে (বর্তমান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল) জমি হুকুম দখল করে ১০০ জন ছাত্রের উপযোগী কলেজ ভবন ও ৭৫ জন ছাত্রের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন রদের ফলে সিলেট জেলা আবার আসাম প্রদেশের সাথে চলে যাওয়ার চার দিন পরে ১৯১২ সালের ২৭শে মার্চ মুরারীচাঁদ কলেজকে সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯১২ সালের ১লা এপ্রিল আসাম সরকার মুরারীচাঁদ কলেজকে সরকারিকরণ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসার পর কলেজের নতুন ৫ সদস্যের পরিচালনা পরিষদে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে পদাধিকার বলে সভাপতি ও কলেজ অধ্যক্ষকে পদাধিকার বলে সম্পাদক করে পরিচালনা পরিষদের সদস্য হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হ

১. খান বাহাদুর সৈয়দ আবদুল মজিদ কাপ্তান মিয়া (জন প্রতিনিধি),
২. কুমার গোপিকারমণ রায় (রাজার উত্তরাধিকারী) এবং
৩. রায় বাহাদুর প্রমোদচন্দ্র দত্ত (জনপ্রতিনিধি)।
১৯১২সালে আসামের চিফ কমিশনার সিলেট দরবারে এসে মুরারীচাঁদ কলেজকে টিলাগড়ের থ্যাকারে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলে অভিবাকগণ এতে অনীহা পোষণ করেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তখনকার পিটারসন স্ট্রিটে (বর্তমান চৌহাট্টা) ১৯১৩ সালে আরো জমি হুকুম দখল করে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সে পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। রাজা জিসি স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত গোবিন্দচরণ পার্কে (বর্তমান হাসান মার্কেট) কংক্রিট পিলার, তার উপর বাঁশের মাচান, ছনের চাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ‘চং বাংলো’ টাইপের কয়েকটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সিলেট শহরের হাজার হাজার জালালী কবুতর আশ্রয় নিত কলেজের এসব গৃহে। ক্লাস নেওয়ার সময় তাদের বাক বাকুম আওয়াজ শুরু হলে পিয়ন এসে বাঁশের দন্ড দিয়ে না তাড়ালে ক্লাস নেওয়াই মুশকিল হয়ে যেত।
কাপ্তান মিয়ার নেতৃত্বে মুরারীচাঁদ কলেজকে প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করার আন্দোলন করা হয়। সরকার থেকে বলা হয়, প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীত করে ডিগ্রি ক্লাস চালু করা হবে যদি প্রথম দুবছরের মোট খরচের অর্ধেক ১৮,০০০ টাকা স্থানীয় জনসাধারণ বহন করেন। কাপ্তান মিয়া সরকারের এ দাবি মেনে নেন। যে ৯জন বিদ্যোৎসাহী জননেতা ২০০০ টাকা করে ১৮,০০০টাকা দান করেন তারা হলেন-
১. খান বাহাদুর আবদুল মজিদ,
২.খান বাহাদুর হাজী মোহাম্মদ বখত মজুমদার,
৩. রায় বাহাদুর নলিনীকান্ত দস্তিদার,
৪.রায় বাহাদুর বৈকুণ্ঠনাথ শর্মা,
৫.বাবু সারদাচরণ শ্যাম,
৬. বাবু রাধাবিনোদ ধাম,
৭. রায় বাহাদুর সুখময় চৌধুরী,
৮.রায় বাহাদুর প্রমোদচন্দ্র দত্ত এবং
৯. বাবু হরেন্দ্রচন্দ্র সিনহা।
কাপ্তান মিয়া সরকারের ধার্যকৃত ১৮,০০০ টাকা যথরিতি জমা দেন। ১৯১৬ সালের জুলাই থেকে এমসি কলেজ প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি কলেজ হিসাবে যাত্রা শুরু করে।
১৯১৮ সালে সরকার টিলাগড়ে ১১০ একর জমি অধিগ্রহণ করেএবং চৌহাট্টার জমি ছেড়ে দেওয়া হয় সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল স্কুলের জন্য। ১৯২১ সালে কাপ্তান মিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসাম আইন পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯২১সালের ১৯শে আগস্ট থ্যাকারে হিলে অধিকৃত জমিতে এমসি কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আসামের তৎকালীন গভর্নর স্যার উইলিয়াম ম্যারিস। এ অনুষ্ঠানে গভর্নরের সাথে ছিলেন-
১. শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর আবদুল মজিদ কাপ্তান মিয়া,
২. ফাইন্যান্স মেম্বর ডবিউ জে রিড ,
৩. ডিপিআই , মি. ক্যানিংহাম,
৪. সিলেটের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট জে এ ডসন,
৫.কলেজের অধ্যক্ষ অপূর্বচন্দ্র দত্ত ও
সিলেটের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কাপ্তান মিয়ার স্বপ্ন ছিল সিলেটে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে সিলেট ছিল আসাম প্রদেশে। তখন আসামে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ১৯২১ সালের ২৯শে আগস্ট অধিকৃত জমিতে আসামের গভর্নর স্যার উইলিয়াম ম্যারিস এমসি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দুর্ভাগ্য, কলেজের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ১৯২২ সালের ২৯শে জুন কাপ্তান মিয়া ইন্তেকাল করেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হন রায় বাহাদুর প্রমোদচন্দ্র দত্ত। কলেজের ভবনাদির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ১৯২৫ সালের ২৭শে জুলাই আসামের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর স্যার উইলিয়াম রিড উদ্বোধন কালে আসামের মন্ত্রী (পরে প্রধানমন্ত্রী) স্যার সৈয়দ মোহাম্মদ সাদউল্লাহ ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। টিলাগড়ে কলেজ স্থানান্তরিত হওয়ার পর ৪টি ব্লকে ছাত্রাবাস চালু হয়। খেলার মাঠসহ একটি হাসপাতালও চালু হয়। সিলেট শহর থেকে মাইল তিনেক দূরে, কলেজ ক্যাম্পাস ও আসামের প্যাটার্নে নির্মিত ছাত্রাবাসের মাঝে দূরত্বটুকু চমৎকার ও মোহনীয় পরিবেশ ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিতে থাকবে আজীবন।

সিলেটে গণভোট ও মুরারীচাঁদ কলেজে শিক্ষক সংকট সৃষ্টি : পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাক্কালে ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই সিলেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশভাগের সময় সিলেট জেলা ভারতের আসাম প্রদেশের অংশ ছিল। এই জেলার ছিল পাঁচটি মহকুমা, যথা—
১. উত্তর শ্রীহট্ট (সিলেট),
২. করিমগঞ্জ,
৩. হবিগঞ্জ,
৪. দক্ষিণ শ্রীহট্ট (মৌলভীবাজার) ও
৫. সুনামগঞ্জ।

ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হলেও সিলেট জেলা ভারতে নাকি পাকিস্তানে থাকবে, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়। এটিই ‘সিলেটের রেফারেন্ডাম’ বা ‘সিলেটের গণভোট’ নামে পরিচিত। রেফারেন্ডামে কংগ্রেস ‘কুঁড়েঘর’ প্রতীক নিয়ে ভারতের পক্ষে এবং মুসলিম লীগ ‘কুড়াল’ প্রতীক নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিল। রেফারেন্ডাম কমিশনার হিসেবে ব্রিটিশ আমলা এইচ সি স্টর্ককে নিযুক্ত করা হয়। নির্বাচনে ২৩৯টি কেন্দ্রে ৪৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ৪৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৫ জন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুরোধে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের আরপি সাহা কয়েকটি লঞ্চ সরবরাহ করে ভোটের প্রচারকর্মিদের সিলেট ভ্রমণে সহায়তা করেছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মওলানা তর্কবাগীশ প্রমুখের সাথে কলকাতার ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানও প্রায় পাঁচ শত ছাত্র নিয়ে গিয়ে সিলেট রেফারেন্ডামে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন।
গণভোটের ফলাফল ১২ই জুলাই দিল্লি পাঠানোর পর ১৮ই জুলাই ভারত স্বাধীনতা আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী বিষয়টির বৈধতা দেওয়া হয়। পাকিস্তানে থাকার জন্য কুড়াল প্রতীকে ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৯টি। অন্যদিকে আসামে থাকার জন্য কুঁড়েঘর প্রতীকে ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১টি। পাকিস্তানে থাকার পক্ষে ভোট বেশি পড়ে ৫৫ হাজার ৫৭৮টি। গণভোটে সিলেট পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হলেও ১৮ই আগস্ট র‌্যাডক্লিফ সীমানা কমিশনের(Redcliffe Commission) বিতর্কিত এক মতামতের ভিত্তিতে মানচিত্রে দাগ কেটে করিমগঞ্জের সাড়ে তিন থানা নিয়ে করিমগঞ্জ মহকুমাকে ভারতভুক্ত করা হয়। সাড়ে তিন থানা বলতে বুঝানো হয়েছে ,
১. রাতাবাড়ি
২.পাথারকান্দি,
৩.বদরপুর ও
৪. করিমগঞ্জ (কিছু অংশ)।
এ গণভোটে বরিশালের তফসিলি সম্প্রদায়ের নেতা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল (পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণেতা, মি. জিন্নার কেবিনেটে কেন্দ্রীয় আইন ও শ্রম মন্ত্রী) মুসলিম লীগের পক্ষে কাজ করেন। ফলে সিলেটের হিন্দুদের মধ্যে নমঃশূদ্র ভোটাররা রেফারেন্ডামে মুসলিম লীগের কুড়াল মার্কায় ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছিল। আসামের গণভোট পরিচালনার জন্য সিলেটে একটা রেফারেন্ডাম বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সেই বোর্ডের সভাপতি হয়েছিলেন আসামের চিফ মিনিস্টিার স্যার সাদুল্লাহর মন্ত্রিসভার সাবেক অর্থমন্ত্রী গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বরের কৃতিসন্তান এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র আব্দুল মতিন চৌধুরী (১৮৯৫-১৯৪৮) যিনি ছিলেন কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর খুব ঘনিষ্টজন। আর রেফারেন্ডাম বোর্ডের সেক্রেটারির দায়িত্বপালন করেছিলেন প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ যিনি ছিলেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পিতা। রেফারেন্ডামের ফলাফল প্রকাশের পর সিলেট পাকিস্তানে পড়ে যাওয়ায় মুরারীচাঁদ কলেজের অনেক হিন্দু অধ্যাপক সিলেট ছেড়ে ভারতবাসী হওয়ায় মুরারীচাঁদ কলেজ ভীষণভাবে শিক্ষক সংকটে নিপতিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্স পড়ানোর অনুমোদন ছিল না। পাকিস্তান সৃষ্টির পরের দুই বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসই অনুসরণ করা হয়েছে। ১৯৬১ সালে পুনরায় অনার্স কোর্স পড়ানো শুরু হয়। শরীফ শিক্ষা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘সকল ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হয়’-এই অজুহাতে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে সিলেট সরকারি কলেজ নামকরণ করা হয়। বলা হলো ১৯১২ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণের সময় কলেজটি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ ছিল আর গিরিশচন্দ্র কলেজটিকে একটি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই অজুহাতে কলেজ ক্যাম্পাসের পুবপাশে পূর্বে অধিকৃত খালি জমিতে এমসি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ নামে আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নানা জটিলতা শেষে ১৯৮৮ সালে শিক্ষা সচিব হেদায়েত আহমেদের উদ্যোগে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কলেজটির জন্মকালিন নাম মুরারীচাঁদ কলেজ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। নতুন প্রতিষ্ঠিত ইন্টারমেডিয়েট কলেজটিকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করে সিলেট সরকারি কলেজ নাম রাখা হয়।

১৯৬৮ সালে এমসি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত করা হয়। ১৯৭৮ সালে কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সারা দেশের সকল কলেজসমূহের সাথে এমসি কলেজকে এর জন্মের ১০০ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়।
বর্তমানে এমসি কলেজ একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ৩টি ফ্যাকাল্টি ও ১৬টি ডিপার্টমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। বাংলাদেশের সপ্তম প্রাচীনতম কলেজটি বর্তমানে প্রায় পনের হাজার ছাত্র-ছাত্রী মুখরিত ১৫০জনের অধিক শিক্ষক এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ লাইব্রেরি (যেখানে এক লক্ষের অধিক বই আছে) নিয়ে কলেজটি তার নাম গর্বের সাথে সমুন্নত রেখে চলেছে।
১৩০ বছর বয়সী(২০২২) এমসি কলেজের প্রাক্তন খ্যাতিমান ছাত্র-ছাত্রিদের কয়েকজন :

১. আবদুল মতিন চৌধুরী (১৮৯৫-১৯৪৮), সাংবাদিক, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রাইভেট সেক্রেটারী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘনিষ্ঠজন, আসামের চিফ মিনিস্টার স্যার সাদুল্লাহর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সিলেট রেফারেন্ডাম পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
২. আলতাফ হোসেইন, সাংবাদিক, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের কেবিনেটের সাবেক শিল্পমন্ত্রী
৩. আবদুস সামাদ আজাদ, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী
৪. কর্নেল (অব.) আবু তাহের, বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ
৫. এম. সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী
৬. শাহ এ এম এস কিবরিয়া, বাংলাদেশের সাবেক অর্থ মন্ত্রী
৭. আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী
৮. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও সমালোচক
৯. নুরুল ইসলাম নাহিদ , বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী
১০. জয় ভদ্র হগজর (১৯১৪–১৯৭৩), ভারতের সাবেক এমপি; আসাম সরকারের প্রাক্তন ভেটেরিনারি, জেল ও মাইনরিটি বিষয়ক মন্ত্রী।
১১. বিচারপতি এ বি মাহমুদ হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
১২. দেওয়ান ফরিদ গাজী, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী
১৩. অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত , বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী
১৪. রাশেদা কে চৌধুরী,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা
১৫. ড. আবুল কালাম আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী
১৬. শাহীনুর পাশা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য।
১৭. ড. এম এ রশীদ , বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর প্রথম উপাচার্য
১৮. সৈয়দ মুর্তাজা আলী, সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতাবা আলীর বড় ভাই। তিনি আইসিএস কোয়ালিফাই করেও উপযুক্ত চাকরি পাননি। রাজশাহীর কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও বাংলা একডেমির সভাপতি ছিলেন।
১৯. মোহাম্মদ আতাউল করিম, বাংলাদেশী-মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী।
২০. ব্রিগেডিয়ার (অব.), আব্দুল মালিক, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় অধ্যাপক
২১. শহীদ ডাক্তার শামসুদ্দিন আহমদ, এমবিবিএস,এফআর সিএস
২২. খলিল উল্লাহ খান, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা।
২৩. মুফতি নুরুন্নেছা খাতুন, অধ্যাপক, লেখিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী।
২৪. নীহাররঞ্জন রায়, ইতিহাসবেত্তা, সাহিত্য সমালোচক
২৫. মইনুল হক চৌধুরী , আসাম রাজ্যসভার সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী।
২৬. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, গল্পকার সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক।
২৭. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সভাপতি, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন।
২৮. মো. ফরাস উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
২৯. সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, ডাকসু ভিপি, জাতীয় সংসদ সদস্য
৩০. কবি দিলওয়ার
৩১. সেগুপ্তা বখত চৌধুরী, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সাবেক উপদেষ্টা তত্ত্বাবধায়ক সরকার
৩২. ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির।
৩৩. শানারেই দেবী শানু, বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও মডেল ।

মুরারীচাঁদ কলেজে ভ্রমণকারীদের কয়েকজন বিশিষ্টজন:

১. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,(১৯১৯)
২. সরোজিনী নাইডু(১৯২৪)
৩.কবি কাজী নজরুল ইসলাম(১৯২৮)
৪. আসামের গভর্নর স্যার মাইকেল কিন (Sir Michael Keane),১৯৩৩
৫. পন্ডিত জওহর লাল নেহরু(১৯৩৭)

এমসি কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিলেটে উচ্চ শিক্ষার সূচনা করেন রাজা গিরিশচন্দ্র রায় এবং সে সূচনাতে পূর্ণতা দান করেন খান বাহাদুর সৈয়দ আবদুল মজিদ কাপ্তান মিয়া(১৮৭২-১৯২২) আর কলেজ সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় স্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন রায় বাহাদুর দুলাল চন্দ্র দেব(১৮৪১-১৯২১)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৩০ বছরের যাত্রায় এ কলেজের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরা শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতার সাথে অবশ্যই এই তিন মনীষীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্মরণে রাখবেন।

তথ্যসূত্র:
১. রোমন্থন, এমসি কলেজ স্মরণে আমরা কজন সতীর্থ, উৎস প্রকাশন, ঢাকা, ২০২২
২. সিলেটের মাটি সিলেটের মানুষ, ফজলুর রহমান, সিলেট, ১৯৯১
৩. জালালাবাদের কথা, দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৮৩
৪. সিলেট ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স, এসএন এইচ রিজভি সম্পাদিত, ঢাকা, ১৯৭০

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!