1. admin@pathagarbarta.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের বিশিষ্টজনদের আহবান দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়াতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরন যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নেটওয়ার্ক নিয়ারস্ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অনুবাদক অধ্যক্ষ মোঃ কোরেশ খান এবং গবেষক ও ড.রণজিত সিংহের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলালকে স্মরণ ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত সিলেটের মেয়রের কাছে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার- দেবেশ চন্দ্র সান্যাল বৃটেনের কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনলাইন সাহিত্য গ্রোপের ঈদ পুনর্মিলনী

স্বাধীনতা ঘোষাণাপত্রের ৫৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র : স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের সৃষ্টিতত্ত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৪৪ বার পঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : আজ ১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে স্বাধীনতা ঘোষাণাপত্রের ৫৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের সৃষ্টিতত্ত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্ব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি) এমপি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সাব-সেক্টর কমান্ডার ও মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের গার্ড অব অনার প্রদানকারী সাবেক এসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট-এর সভাপতি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শহীদসন্তান অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী।
সভা সঞ্চালনা করেন নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি শহীদসন্তান নাট্যজন আসিফ মুনীর। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘১৯৭১-এর ১০ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা করা হয়, যার খসড়া রচনা করেছিলেন ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় সংসদের সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মূল সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ই ছিল কার্যত বাংলাদেশের সংবিধান। যে কারণে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এই ঘোষণাপত্রকে বলা হয়েছে সংবিধানের ‘জেনেসিস’ বা সৃষ্টিতত্ত্ব।’
তিনি বলেন, ‘ নির্মূল কমিটি গত কয়েক বছর ধরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ’৭১-এর গণহত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ইতিহাস অস্বীকারকারীদের শাস্তির জন্য ইউরোপের ‘হলোকাস্ট ডিনায়াল এ্যাক্ট’-এর মতো কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে। আমরা আশা করব ’৭১-এর গণহত্যার সরকারি স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত এই আইন পাশ করবে।, তিনি ১০ এপ্রিলকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালনের পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি) এমপি বলেন, ‘’৭১-এর ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ১৭ এপ্রিল। সেই অনাড়ম্বর আন্তরিক ভালোবাসাপূর্ণ শান্ত সুনিবিড় পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন দেশী বিদেশী বহু নামি সাংবাদিক। সাক্ষী হিসেবে ছিলেন হাজারো স্থানীয় মানুষ। সনাতন ধর্মালম্বী একজনের বাড়ি থেকে আনা হারমোনিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন ভবেরপাড়ার ছেলেরাই। গার্ড অব অনার প্রদান করেন স্থানীয় আনসার ও পুলিশের সদস্যবৃন্দ। আর এর নেতৃত্বে ছিলেন ঝিনাইদহের এসডিপিও মাহবুবউদ্দিন আহমেদ। এভাবেই সকল ধর্মের মানুষের একত্রিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে বঙ্গন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে করা হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি। তিনি তখনও পাকিস্তানীদের হাতে বন্দী। তাই উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন তাজউদ্দীন আহমদ। একই সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের। ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন, অধ্যাপক ইউসুফ আলী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং হাজারো জনতার সামনে বক্তব্য রাখলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তাজউদ্দীন আহমদ বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করলেন ‘মুজিবনগর’।

সাবেক এসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে প্রবাসী বাঙ্গালি নেতৃত্বে যতগুলো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের গতি সঞ্চারিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সর্বপ্রথম সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারের আত্মপ্রকাশ ছিল সে সকল পদক্ষেপের অত্যতম।’
তিনি বলেন, ‘১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে পলাশীর আমবাগানে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালিরা দু’শো বছর পরাধীনতার নিগঢ়ে আবদ্ধ হয়েছিল। ঠিক দু’শো তের বছর নয় মাসের মাথায় সেই আমবাগানের মাত্র পঁঞ্চাশ মাইল পূর্ব-দক্ষিণে আরেক আমবাগানে আমরা স্বাধীনতার সূর্যকে জাগরূক করেছিলাম। সে জাগরনের ক্ষণে নবোদিত সূর্যকে যাঁরা প্রথম দেখেছিলেন, আমিও তাঁদের একজনÑ এ শ্লাঘা আমৃত্যু আমাকে গৌরবদীপ্ত করবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন- ‘১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধান প্রণয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। যে চারটি চেতনা, যথা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল কথা, তার সূত্রও ঘোষণাপত্রের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় সেই অধ্যায়ে যেখানে বলা হয়েছে “বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে।” এই তিনটি বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে চারটি চেতনাই এই তিনে প্রতিফলিত। যারা বলে এতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না, তারা ইচ্ছা করেই এর অপব্যাখ্যা করছেন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ছাড়া অচিন্তনীয়।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘মুজিবনগর ঘোষণায় যা বলা হয়েছিল আজ ৫৩বছর পর তার অধিকাংশই বিলীন হয়ে গেছে। একটি দেশের উত্থানের জন্য ৫৩ বছর কম সময় নয়। কিন্তু এই সময়ে বাংলাদেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ‘মানুষের সাম্য, মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ সবই লুপ্ত। মুজিবনগর ঘোষণায় বাঙালি জাতির যে আত্মমর্যাদার কথা বলা হয়েছিল দৃপ্তভরে তা আজ অপসৃত। একটি জাতির উন্নয়নের জন্য যে দিক নির্দেশনার প্রয়োজন তার সবই ছিল আমাদের শাসনতন্ত্রে। আজ ৫৩ বছর পর তা যুগোপযোগী নয় এমন কথা এখনও বলা যাবে না। ঐ ঘোষণা, তথা শাসনতন্ত্র যদি নিষ্ঠভাবে মেনে চলা যায় তাহলে জাতি অনেক বিভ্রান্তি, দ্বন্দ্ব দূর করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। ঐ ঘোষণার মূল বাণী সিভিল সমাজ প্রতিষ্ঠার কাঠামোও নির্মাণ করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মুজিবনগর ঘোষণা দিয়েছিল জাতির পক্ষে আওয়ামী লীগ। ১৯৭২ সালের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেছিল জাতির পক্ষে আওয়ামী লীগ। এখন জাতির মর্যাদাজ্ঞাপক ১৯৭২ সালের শাসনতন্ত্রে আবার ফিরে যাবো কিনা তাও নির্ধারণ করতে পারে আওয়ামী লীগ।’

বক্তারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রদানের ঐতিহাসিক দিন ১০ এপ্রিলকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপনের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!