1. admin@pathagarbarta.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পদক্ষেপ গণপাঠাগারের সদস্য সেলিমের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত বন্যপ্রাণী বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই  বার্মিংহামে শেবুল চৌধুরীর ‘বৃক্ষের সাথে ভালোবাসা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত বিশ্ব কবিমঞ্চের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন  দি এইডেড হাই স্কুল, সিলেট এর যুক্তরাজ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ লন্ডনে দুইদিন ব্যাপী চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে মিরপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শাবিপ্রবিতে সৈয়দ মুজতবা আলী ও ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি:  আমার দাদা খান বাহাদুর হাসেম আলী খান 

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৯০ বার পঠিত
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি: আমার দাদা খান বাহাদুর হাসেম আলী খান
জহিরুল ইসলাম খান
আমার দাদা (পিতামহ) মরহুম আলহাজ্জ্ব খান বাহাদুর হাসেম আলী খান ১৮৮৮ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার স্বরুপকাঠির সেহাঙ্গল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পর কলিকাতা বিএ এবং ল পাস করেন। গ্রাজুয়েশন শেষ করে তিনি কিছুদিন কলিকাতা বেকার হোস্টেলের সুপারেন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯১৩ সালে বরিশাল ও কলিকাতার আলীপুর কোর্টে আইনপেশা শুরু করেন।
তিনি বরিশাল জেলা বোর্ডের প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসেম আলী খান জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পুকুরের পানি নিয়ে বিতর্ক নিরসন করার জন্য শহরের সাথেই টিয়াখালীতে একটি তালুক ক্রয় করে সেখানে একটি বিশাল দীঘি খনন করিয়ে জেলা বোর্ডের কাছে দান করেন।  তিনি কৃষক প্রজাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বৃহত্তর বরিশালে প্রজা আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং গৌরনদীর আগৈলঝাড়ায়, স্থানীয় মুসলিম নেতা মাজেদ কাজী (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট কাজী গোলাম মাহবুবের পিতা) ও নিম্ন বর্ণের হিন্দু নেতা ভেগাই হালদারের সহায়তায় এক বিশাল প্রজা আন্দোলন গড়ে তোলেন, আর ঐ আগৈলঝাড়ায় সমাবেশের ঘোষণা দিলে, ঐ সমাবেশে যাতে সফল না হয়, সে জন্য কলিকাতা থেকে কংগ্রেসের নেতা সরোজিনী নাইডু বরিশালে আসেন , তার মূল কারণ ছিল ঐ এলাকা সহ আশেপাশের জমিদারদের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। এদের মধ্যে বরিশালের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের জমিদারিও ছিল। অবশেষে আগৈলঝাড়ার প্রজা সন্মেলনের ব‍্যপকতা ছরিয়ে পরে। ইতিমধ্যে বরগুনার গৌরিচন্নায় লাল মিয়ার নেতৃত্বে প্রজা সন্মেলনের হাসেম আলী খানের সভাপতিত্বে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে,  ঐ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন ঢাকার নওয়াবরা। ইতিমধ্যে মহাত্মা গাঁধী, মাওলানা মোহাম্মদ আলী বরিশাল এসে হাসেম আলী খানের সদর রোডের বাসভবনে ওঠেন এবং গান্ধিজী যে হেতু নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের সাথে ওঠাবসা করেন তাই কোনো হিন্দুর বাড়িতে একজন মুসলিম নেতাকে বাসায় রাখতে রাজি ছিলেন না। মহাত্মা গান্ধি এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী বি,এম স্কুলের মাঠে যে জনসভা করা হয়, গান্ধী জীর হিন্দি ও মাওলানা মোহাম্মদ আলীর উর্দু ভাষায় ভাষণের বাংলায় ভাষান্তর করে শোনান হাসেম আলী খান। ১৯২১ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ফরিদপুর থেকে বরিশাল এসে সদররোডের খান বাহাদুর ভবনে ওঠেন।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পটুয়াখালী থেকে এবং খান বাহাদুর হাসেম আলী খান বরিশাল সদর আসনে কৃষক প্রজা পার্টি থেকে অবিভক্ত বাংলার এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন।
শেরে বাংলা প্রথম অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। খানবাহাদুর হাসেম আলী খান জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের নিমিত্তে গঠিত স‍্যার ফ্লাউড কমিশনের সদস্য হয়ে কমিশনের রিপোর্ট প্রজাদের অনুকুলে আনতে সক্ষম হন।তিনি ১৯৪১-৪২-৪৩ সনে বাংলার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং শিক্ষা, সমবায়, কৃষি ও  ঋণ শালিস মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেন ।১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি বেঙ্গল এসেম্বলির সদস্য ছিলেন।  দেশ ভাগের পর তিনি বরিশাল চলে আসেন এবং আইন ব‍্যাবসা পরিচালনা করেন। ইতিমধ্যে তিনি একবার বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৪১ সালে আমার পিতা মরহুম নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান) এর আমন্ত্রণে বরিশাল আসেন এবং ঐ বাড়িতে অবস্থান করেন। এক সময় পর্যন্ত শেরেবাংলা ঐ বাড়িতেই অবস্থান করতেন। ( আগরপুর রোডে একটি একতলা বাড়ি ক্রয়ের পূর্ব পর্যন্ত)। ১৯৬২ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রচারণা করতে গিয়ে তিনি নৌকা ডুবে ইন্তেকাল করেন (১৬ এপ্রিল ১৯৬২) ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে আমার ছয় মাস বয়স থেকে আমি তার সাথে এক বিছানায় থাকতাম । তার স্নেহ ভালোবাসা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।
আমি সকলের কাছে আমার দাদার জন্য দোয়া চাই, মহান আল্লাহ তাকে যেন বেহেশত নসীব করেন।
লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!