1. admin@pathagarbarta.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পদক্ষেপ গণপাঠাগারের সদস্য সেলিমের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত বন্যপ্রাণী বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই  বার্মিংহামে শেবুল চৌধুরীর ‘বৃক্ষের সাথে ভালোবাসা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত বিশ্ব কবিমঞ্চের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন  দি এইডেড হাই স্কুল, সিলেট এর যুক্তরাজ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ লন্ডনে দুইদিন ব্যাপী চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে মিরপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শাবিপ্রবিতে সৈয়দ মুজতবা আলী ও ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৩৩ বার পঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার: ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ-২ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, খ্যাতিমান শিক্ষক ও নবীগঞ্জের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে পারিবারিক পরিসরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ-সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রত্না দাশ, অনুজ কবিন্দ্র চন্দ্র দাস, পুত্র রত্নদীপ দাস রাজু ও রত্নেশ্বর দাস রামু, গ্রন্থাগারের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফোরামের সহ-সভাপতি জনি দাস, ভাতিজি সৃষ্টি রাণী দাস, ভাতিজা জিৎ দাস, নাতি দীপ শেখর দাস, নাতনি মমী সহ পরিবার পরিজন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস ১৯৫৪ সালের ৩১ জানুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দীগেন্দ্র চন্দ্র দাস ও মাতা মণি বালা দাস। পিতামহ দীননাথ দাস ছিলেন স্বদেশী আন্দোলনের স্থানীয় সংগঠক ও ব্রিটিশ শাসনামলের নবীগঞ্জ থানার ৩৯নং সার্কেলের সরপঞ্চ। পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন সংস্কৃতমনা। ছাত্রজীবনে তিনি যাত্রাদলে অভিনয় ও গানের ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ছাড়াই ছাত্রজীবনে বাউলসংগীত ও লোকসংগীতে পারদর্শিতার পাশাপাশি অভিনয়েও সমান পারঙ্গমনতা অর্জন করেন। তাছাড়া ফুটবল, হাডুডু, দৌড়, সাঁতার, বক্তৃতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জ মহকুমাসহ বৃহত্তর সিলেটের মধ্যেও বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় কৃতিত্ব অর্জন করেন।

তিনি ছাত্র হিসেবে যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি বৃন্দাবন কলেজের ছাত্র সংসদ রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। অংশগ্রহন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচীতে। এই সময়টা অর্থ্যাৎ ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালটা ছিল উত্তাল। এই সময়ে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক কর্মকান্ডে হবিগঞ্জ আসলে, তাঁদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগও হয় তাঁর। মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর (হবিগঞ্জের) রক্তে আগুনলাগা জ্বালাময়ী ভাষণে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকা মুক্ত করার সংগ্রামে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর সারাদেশ জুড়ে যখন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি শুরু হয়, তখন যুবক রবীন্দ্রও স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যুদ্ধে যোগদানের প্রত্যয় নিয়ে বাড়ী ফিরেন। নবীগঞ্জে এসে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি পুরুষ জননেতা শ্যামাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত (বিধুবাবু) এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ শুরু করেন।

এরই মধ্যে তিনি পরিবার-পরিজন সহ ভারতে গমন করে মৈলাম শরনার্থী ক্যাম্পে পরিবার-পরিজনদের রেখে মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটিং ক্যাম্পে উপস্থিত হন। ৫নম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মীর শওকত আলী (পরবর্তীতে লে.জেনারেল) তাঁকে রিক্রুট করেন। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে ৫ নং সেক্টরের ৩০ জনের চৌখোস ও শিক্ষিত একটি যুবকদের নিয়ে (WAR Trained Intelligence & Security Branch) স্পেশাল ব্যাচ-২ গঠন করলে, মুক্তিযুদ্ধের যুব শিবিরের প্রশাসক ভারতীয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব:) এন সি বসাক মহোদয়ের নির্দেশে ৩০ জনের ঐ দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জোয়াইন এলাকার ইস্টার্ন কমান্ড ওয়ান (ইকোঅওয়ান) এ পাঠানো হয়। এই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন রবীন্দ্র চন্দ্র দাস। ইকোওয়ান-এ ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের কার্যক্রমের উপর (WAR Trained Intelligence & Security Branch) ২১ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর ডিংরাই ইয়ুথ ক্যাম্প প্রশাসক ফ্লাইট ল্যাফটেন্যান্ট (অব:) নরেন্দ্র চন্দ্র বসাকের (এন সি বসাক) নির্দেশে তিনি ৫নম্বর সেক্টরের টেকারঘাট সাব-সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিন ওরফে দীন মোহাম্মদ এর অধীনে মুক্তিযুদ্ধের স্বশস্ত্র পর্বে অংশগ্রহন করেন। একটা সময় ক্যাপ্টেন দীন মোহাম্মদের সাথে তাঁর সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মনোমালিন্য দেখা দিলে তিনি বালাট সাব-সেক্টরে চলে আসেন। বালাট সাব-সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন এম.এ মোত্তাল্লিব সাহেবের অধিনে তিনি- ভাতেরটেক, পলাশ, আমবাড়ি, বৈষেরভের, চিনাকান্দি, গৌরারং, টেংরাটিলা, ডলুয়া প্রভৃতি স্থানে সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি চাকুরী প্রতিযোগীতায় নেমেই আশাতীত সুযোগ পান একই সাথে তিনটি পদে উত্তীর্ণ হয়ে। পদ তিনটি হলো পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর, চা বাগানের টিলা বাবু এবং প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তাঁর পিতার নির্দেশে ও শিক্ষা বিস্তারের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে শিক্ষকতাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। একটা সময় শিক্ষক হিসেবে তিনি খ্যাতি কীর্তি অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পান। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মানবতাবোধ সম্পন্ন একজন দেশপ্রমিক তথা আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। আজীবন অসাম্প্রদায়িক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে কাজ করে গেছেন। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭১-এ বিজয় অর্জনকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। উল্লেখ্য যে, তাঁর নিজ গ্রামে তাঁর নামানুসারে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ প্রতিষ্ঠিত করা হয়। তাঁর ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিদেহী আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনায় তাঁর নিজ বাড়িতে পরলৌকিক ক্রিয়াদি তথা একোদ্দিষ্ঠ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!