1. admin@pathagarbarta.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পদক্ষেপ গণপাঠাগারের সদস্য সেলিমের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত বন্যপ্রাণী বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই  বার্মিংহামে শেবুল চৌধুরীর ‘বৃক্ষের সাথে ভালোবাসা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত বিশ্ব কবিমঞ্চের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন  দি এইডেড হাই স্কুল, সিলেট এর যুক্তরাজ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ লন্ডনে দুইদিন ব্যাপী চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে মিরপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শাবিপ্রবিতে সৈয়দ মুজতবা আলী ও ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

প্রসঙ্গ : শ্রী রামানুজাচার্য

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ২৫১ বার পঠিত

প্রসঙ্গ : শ্রী রামানুজাচার্য
লিয়াকত হোসেন খোকন

রামানুজাচার্যের স্ট্যাচু উদ্বোধন করলেন ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রীয়ভাবে কেউ তাঁর প্রতি তেমন একটা আগ্রহ না দেখালেও অবশেষে দাক্ষিণাত্যের মাটিতে বসল শ্রী রামানুজাচার্যের স্ট্যাচু অফ ইকুয়ালিটি। এটি উদ্বোধন করে সাম্যের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রামানুজাচার্যের ১০০০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শ্রদ্ধা জানালেন ও মূর্তিটি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম মূর্তি। এটি তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়াদ্রাবাদের নিকটস্থ শামসাবাদে স্থাপিত করা হয়েছে। শ্রী চিন্না জীয়র স্বামী আশ্রমের ৪০ একর জমিতে রামানুজাচার্যের মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পদ্মের উপর হাতজোড় করে বসে রয়েছেন শ্রী রামানুজাচার্য। এই মূর্তির উচ্চতা ২১৬ ফুট। পাঁচটি ধাতু দিয়ে এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সোনা, রূপো, তামা, ব্রোঞ্জ ও জিঙ্ক।

একদা ভক্তি আন্দোলনে প্রাণ জুগিয়েছিলেন শ্রী রামানুজাচার্য। জাতি, ধর্ম, শ্রেণি নির্বিশেষে সমানাধিকার প্রাপ্ত মানুষকে নিয়ে সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। রামানুজাচার্য ১০১৭ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের শ্রীপেরুম্বুদুরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি তাঁর গুরু যাদব প্রকাশের কাছ থেকে বেদ শেখার জন্য কাঞ্চী যান। রামানুজাচার্য ছিলেন আলওয়ার সন্ত যমুনাচার্যের প্রধান শিষ্য। গুরুর ইচ্ছানুসারে রামানুজ তিনটি বিশেষ কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি ব্রহ্মসূত্র, বিষ্ণু সহস্রনাম এবং দিব্য প্রবন্ধধামের ভাষ্য রচনা করেন।

রামানুজচার্য অল্প বয়সে গৃহ ত্যাগ করেন এবং শ্রীরঙ্গমের জ্যোতিরাজ নামে এক সন্ন্যাসীর কাছ থেকে দীক্ষা নেন। রামানুজাচার্য মহীশূরের শ্রীরঙ্গম থেকে শালিগ্রামম নামক স্থানে চলে যান। রামানুজচার্য সেই অঞ্চলে ১২ বছর বৈষ্ণব মত প্রচার করেছিলেন। এর পরে বৈষ্ণব মত প্রচারের জন্য তিনি পুরো ভারত উপমহাদেশে ভ্রমণ করেন। ১১৩৩ খ্রিস্টাব্দে রামানুজাচার্য ১১৬ বছর পূর্ণ করেন এবং ব্রাহ্মণ হন। তাঁর লেখা কয়েকটি বইয়ের মধ্যে দু’টি বই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়। সেই বই দু’টি হল – শ্রীভাষ্যম এবং বেদান্ত সংগ্রহ।

রামানুজাচার্যের মতে, ভক্তির অর্থ আরাধনা বা কীর্তন, ভজন নয় বরং ঈশ্বরের ধ্যান করা বা প্রার্থনা করা। তবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে রামানুজাচার্য শক্তিকে বর্ণ ও শ্রেণি থেকে পৃথক এবং সকলের পক্ষে সম্ভব বলে বিবেচনা করতেন। রামানুজাচার্যের দর্শনের শক্তি বা ঈশ্বরের সাথে তিনটি স্তর বিবেচনা করা হয়েছে – ব্রহ্ম অর্থাৎ ঈশ্বর, চিত অর্থাৎ আত্মা এবং প্রাকৃত অর্থাৎ প্রকৃতি। প্রকৃতপক্ষে, এই মন ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের, অর্থাৎ আত্মা এবং অতীত থেকে পৃথক নয়। যা ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের প্রকৃতি। তবে এগুলি ব্রহ্মের দু’টি রূপ এবং ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল। প্রকৃতপক্ষে, এটি রামানুজাচার্যের বেদান্তের মূলনীতি। দেহ ও আত্মা পৃথক নয়। দেহ নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যেমন কাজ করে, তেমনি ব্রহ্ম বা ঈশ্বর ব্যতীত মন এবং অমোঘ উপাদানগুলির অস্তিত্বও নেই। এগুলি ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের দেহ এবং ব্রহ্ম বা ঈশ্বর তাদের আত্মার মতো।

বৈষ্ণব আচার্য রামানুজাচার্যের শিষ্য ছিলেন রামানন্দ। আবার রামানন্দের শিষ্য ছিলেন কবির ও সুরদাস। হিন্দুরা তাঁকে হিন্দু দর্শনের বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্তের প্রধান ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে মনে করেন। রামানুজাচার্যের মৃত্যু ১১৩৭ সালে তামিলনাড়ুর শ্রীরঙ্গমে। শ্রী রামানুজাচার্য, উপাধ্যায় ও লক্ষ্মণ মুনি নামেও পরিচিত ছিলেন। রামানুজাচার্যের মূর্তিটির মাধ্যমে তাঁর বাণী, তাঁর দেখানো পথের কথা নানা সময়ে নানা সাধুসন্তুরাই বলে এসেছেন। আমরা এবার চাই, রামানুজাচার্যের আদর্শ ছড়িয়ে যাক গোটা বিশ্বে রামানুজাচার্যের পথে এগিয়ে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি হোক, এটাই আশা। আমাদের দৃষ্টিতে এই মূর্তিটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসকে চোখের সামনে নিয়ে আসবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ; রূপনগর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!