1. admin@pathagarbarta.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পদক্ষেপ গণপাঠাগারের সদস্য সেলিমের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত বন্যপ্রাণী বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই  বার্মিংহামে শেবুল চৌধুরীর ‘বৃক্ষের সাথে ভালোবাসা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত বিশ্ব কবিমঞ্চের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন  দি এইডেড হাই স্কুল, সিলেট এর যুক্তরাজ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ লন্ডনে দুইদিন ব্যাপী চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে মিরপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শাবিপ্রবিতে সৈয়দ মুজতবা আলী ও ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

ভাগ্যকূলের জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়- আবদুর রশীদ খান

পাঠাগার বার্তা
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪১৬ বার পঠিত
ভাগ্যকূলের জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়
আবদুর রশীদ খান
 
প্রমত্তা পদ্মানদীর তীর ঘেষা ভাগ্যকূল। ভাগ্যকূলের জমিদার বংশের যেমন ছিল প্রতাপ প্রতিপত্তি তেমনি ছিল বেশুমার ধনসম্পদ। তাদের এতো ধন-সম্পত্তি ছিল যে, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাদের পূর্ববঙ্গের ধনকূবের উপাধি দিয়েছিল। ভাগ্যকূলের জমিদাররা প্রথমে ব্যবসায়ী ছিলেন। এই জমিদার পরিবারটি প্রথমে রায় এবং পরে ব্রিটিশ সরকার হতে রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন। এদের বংশ পদবী ছিল কুন্ডু। বহুমুখে শুনেছি জমিদারদের এগারটি হিস্যা ছিল। এদের মধ্যে একটি হিস্যা ভাগ্যকূলের স্থানীয় বিখ্যাত জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়

ভাগ্যকূলের জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়

জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায় পড়াশুনায় প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পর্যন্ত পার করতে পারেন নি। তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। ছোট বেলায় এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসক তাকে আর পড়াশুনা করতে বারন করেন। এমতাবস্থায়, তিনি নিজ বাড়ীতে গৃহশিক্ষক রেখে ইংরেজী ও বাংলায় শিক্ষার্জন করেন। সেজন্য স্কুল, কলেজ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান করায় তার অধিক আগ্রহ ছিল। কাগজে কলমে ১৯০০ সালে জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায় নিজ নামে বিক্রমপুরের ভাগ্যকূলে হরেন্দ্রলাল দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ভাগ্যকূল চ্যারিটেবল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ হরেন্দ্রলাল পাবলিক লাইব্রেরী, মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদার হরেন্দ্রলাল রায় বাহাদুর উদার ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে তদানীন্তনকালে ব্রিটিশ ভারতে বহুল আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। ভাগ্যকূল হরেন্দ্রলাল স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্নে ভাগ্যকূলের অন্যান্য জমিদারদের মধ্যেও স্কুল করার পক্ষে মতভেদ ছিল। ব্রিটিশ ভারতে তিনি অসংখ্য বিদ্যালয়, চ্যারিটেবল ডিসপেন্সারী, মন্দির, পানীয় জলের ট্যাংক, রেসকোর্স, রাস্তাঘাট প্রতিষ্ঠায় মুক্তহস্তে দান করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। দানশীল ছিলেন বিধায় ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯১৪ সালে “রায় বাহাদুর” উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি নিজের স্টীমার ও পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার ওয়ারবন্ড ক্রয় করে যুদ্ধ ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় সরকারকে সহযোগিতা করেছিলেন। ভাগ্যকূলে নিজ বাড়ীর সন্নিকটে সুরম্য লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। লক্ষ্মী নারায়ণ নামে তার একটি বাইচের নৌকাও ছিল। 
 
জমিদার রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়ের স্ত্রীর নাম ছিল শ্রীমতি রাধারানী। শ্রীমতি রাধারানী ভাগ্যকূলের অন্যান্য জমিদারদের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে রূপবতী, নম্র ও ভদ্র। হরেন্দ্রলাল রায়ের চার পুত্র ও তিন কন্যা। তার প্রথম পুত্র নটেন্দ্রলাল রায় ভাগ্যকূল স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় কলকাতার শোভাবাজারের পৈত্রিক বাড়ীতে বেড়াতে এসে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। নটেন্দ্রলাল রায় তার আদরের পুত্র ছিল। এরপর তার কণিষ্ঠ পুত্র সরোজেন্দ্রলাল রায় বিএ পরীক্ষা চলাকালীন বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে পনের দিনের মধ্যে শোভাবাজারের বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১৭ সালের কথা, এরপর থেকে রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায় মনের দিক থেকে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন। দুই পুত্রের মৃত্যুর পরে পিতা দ্বিতীয় পুত্র শ্যামেন্দ্রলাল রায়ের উপর সমস্ত বিষয় সম্পত্তির ভার ন্যস্ত করেন। ১৯৩৫ সালে তার প্রিয়তমা স্ত্রী শ্রীমতি রাধারানী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিকভাবে মারা যান। চতুর্থ পুত্র বরেন্দ্রলাল রায় মাত্র ৪৫ বছর বয়সে বহুমুত্র রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এবং ১৯৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
লেখক: আবদুর রশীদ খান; লেখক ও পরিবেশবিদ, 
রাড়িখাল, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

error: Content is protected !!