বই মানুষের পরম বন্ধু, যা আমাদের নিঃস্বার্থভাবে দান করে জ্ঞান, করে তুলে প্রজ্ঞাবান। কিছু বই আছে লেখক চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে লিখে আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করেন। আবার কিছু বই থাকে যেখানে গবেষক তাঁর গবেষণালব্ধ ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের সমাহার করে থাকেন। যা আমাদের অতীত সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। ‘কালের অভিজ্ঞান’ এমনই এক গ্রন্থ। কালের সাক্ষী হয়েই থাকবে আমাদের মনে। এই গ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনামলের বৃহত্তর শ্রীহট্ট অধুনা সিলেট বিভাগের তৎকালীন স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার এক সমৃদ্ধ ধারা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রশাসনিক প্রধান সরপঞ্চদের তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। গ্রন্থটি নবীগঞ্জ থানার ৩৯ নং সার্কেল পঞ্চায়েতের দুই সহোদর সরপঞ্চ, স্বদেশী আন্দোলনের কর্মি-সমর্থক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রীমান সনাতন দাস ও শ্রীমান দীননাথ দাস এঁর জীবনী ও সেই সাথে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রান্তে সরপঞ্চের দায়িত্ব পালনকারী আরো ১২০ জনের তথ্য সংবলিত। ইতিহাসের পাঠ থেকে বিলুপ্তপ্রায় এমন তথ্য সংগ্রহ কতটুকু কষ্টসাধ্য তা কেবল একজন গবেষক জানেন ও তাঁর সাহিত্যের প্রতি একনিষ্টতার দরুন সেই কষ্টকে সাদরে বরণ করে এমন দুর্মূল্য উপহার আমাদের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারেন।
‘কালের অভিজ্ঞান’ স্মারকগ্রন্থটি এমন একজন লেখক সম্পাদনা করেছেন, যিনি দীর্ঘকাল ইংল্যান্ড প্রবাসী হলেও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসায় উনার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। যে সময়ে মানুষ খুঁজে একটু বিশ্রাম, একটু অবসর, সেই সময়ে এসে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক জনাব মতিয়ার চৌধুরী এমন একটি গ্রন্থ আমাদের উপহার দিলেন, যার জন্য আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম উনার ও উনার সম্পাদনা পর্ষদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। কারণ, এই বই আমাদের বঙ্গভূমির স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ধারার সাথে পরিচিত করেছে। অনেকে সরপঞ্চ শব্দের সাথে পরিচিত নয়, তথাপি এই গ্রন্থ আমাদের সরপঞ্চ সম্পর্কে যেমন জ্ঞান দান করবে, তেমনি ১২০ জন সরপঞ্চের সাথেও পরিচিত করবে।
Leave a Reply